খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে নতুনভাবে এগোতে চায় এসজেডিএ

জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ির বেরুবাড়ির কাছে প্রস্তাবিত টমেটো পাউডার এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্প নিয়ে নতুনভাবে এগোতে চাইছে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ)। মঙ্গলবার জলপাইগুড়িতে এসজেডিএ অফিসে ওই প্রকল্পকে নতুনভাবে চালু করার জন্য হর্টিকালচার এবং কৃষি বিপণন দপ্তরের আধিকারিকদের পরামর্শ নেওয়া হয়। অভিযোগ, দীর্ঘ আট বছরেও পাঁচবার টেন্ডার ডেকেও ওই অধিগৃহীত জমিতে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে শিল্পোদ্যোগীকে আনতে পারেনি এসজেডিএ। ফলে আট বছর আগে শিলান্যাস করা জলপাইগুড়ির বেরুবাড়িতে প্রসেসিং অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার ফর টমেটো পাউডার অ্যান্ড অ্যালয়েড প্রোডাক্টের শিল্প ইউনিট আজও তৈরি হয়নি। এই কৃষিভিত্তিক শিল্পের জন্য নেওয়া ১০ একর জমি এখন গোচারণভূমিতে পরিণত হয়েছে।

বর্তমান পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব এসজেডিএ-র চেয়ারম্যান থাকাকালীন ২০১২ সালে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের জলপাইগুড়ি-হলদিবাড়ি রাজ্য সড়কের ধারে বেরুবাড়িতে এই প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন। এসজেডিএ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল ১ বছরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। প্রথম পর্যায়ের কাজে জমির উন্নয়ন ও সীমানাপ্রাচীর দেওয়া, দুই লেনের অ্যাপ্রোচ রোড, অফিস, এটিএম, কনফারেন্স রুম, গেস্টরুমের জায়গা নির্দিষ্ট করে তৈরি করা, প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রভৃতির কাজ করা। এসজেডিএ-র তরফে ঘোষণা করা হয়েছিল, এই রাজ্যে টমেটো প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন হলেও তা ঠান্ডা ঘরে মজুত রাখার ব্যবস্থা নেই। ফলে উ‌ৎপাদিত টমেটোর ৫০ শতাংশ রপ্তানির সময় নষ্ট হয়। এই কারণে রাজ্য সরকারের শিল্প বাণিজ্য দপ্তরের সহযোগিতায় এবং কেন্দ্রের অ্যাসিস্ট্যান্স টু স্টেট ফর ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফর এক্সপোর্ট (এএসআইডিই)-এর অর্থসাহায্যে এই শিল্প গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

- Advertisement -

এসজেডিএ-র ভাইস চেয়ারম্যান নান্টু পাল জানান, উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টমেটো উৎপাদন হয় কোচবিহারের হলদিবাড়ি ব্লকে। জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলায় সার্বিকভাবে টমেটো উৎপাদন ভালো। কৃষকরা ন্যায্য দাম না পেয়ে রাস্তায় ফেলে দেন টমেটো। আমরা এখন নতুন উদ্যমে এই প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করতে চাই। এই বিষয়ে এসজেডিএ-র চেয়ারম্যান বিজয়চন্দ্র বর্মন বলেন, শুধু টমেটো পাউডার তৈরি নয়, এখানে বহুমুখী সবজির হিমঘর করব। তাছাড়া পেয়ারা, লংকা, আদা এগুলির পাউডার করার প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট করা হবে। আমরা কৃষি বিপণন এবং হর্টিকালচার দপ্তরের পরামর্শ নিলাম। এবার আগ্রহী শিল্পোদ্যোগীদের ডাকা হবে। তাঁদের বোঝানো হবে। কারণ হলদিবাড়িতে তিস্তার উপর জয়ী সেতু হলে এই শিল্প ইউনিটের গুরুত্ব বাড়বে।