আজানে ঘুমের সমস্যা, জেলাশাসককে চিঠি এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের

184

লখনউ: সাতসকালে আজানের শব্দে ঘুম ভাঙে, শুরু হয়ে যায় মাথা ব্যথা এমনই অভিযোগ জানিয়ে বিহিত করার দাবিতে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সঙ্গীতা শ্রীবাস্তব জেলাশাসক ভানুচন্দ্র গোস্বামীকে চিঠি দিয়েছেন। উপাচার্যের দাবি, অবিলম্বে তাঁর বাড়ির কাছে অবস্থিত মসজিদে মাইকের ব্যবহার বন্ধ করা হোক। জেলাশাসক তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন, আইন অনুযায়ী যা পদক্ষেপ করার তিনি করবেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই মাইকে আজান বন্ধ করার পক্ষে সায় দিয়েছেন। পাশাপাশি, বিজেপি এই এলাকায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে এধরণের বিষয় সামনে আসছে বলে অভিযোগ উঠছে।

জেলাশাসককে দেওয়া ওই চিঠিতে উপাচার্য জানিয়েছেন, আজান থেমে গেলেও ঘুম আর আসতে চায় না। ফলে মাথা ধরে থাকে। যার প্রভাব পড়ে সারাদিনের কাজে। তবে তাঁর চিঠিতে তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তিনি কোনও ধর্মের বিরোধী নন। কিন্তু রমজানের সময় ভোর ৪টে থেকে মসজিদের মাইকে যেভাবে ঘোষণা শুরু হয়ে যায়, তাতে এলাকার মানুষদের অসুবিধা হয়। ইতিমধ্যে তাঁর চিঠির কপি ডিভিশনাল কমিশনারের কাছেও পাঠিয়েছেন তিনি।এই অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। অযোধ্যার সন্ন্যাসী ও পুরোহিতরা উপাচার্যকে সমর্থন করছেন। তাঁদের দাবি, খুব জোরে না বাজিয়ে যদি মাইকে মাঝারি শব্দে আজান বাজানো হয় তাহলে কারও অসুবিধেই হবে না।

- Advertisement -

উপাচার্যকে সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছেন বিজেপি মুখপাত্র মণীশ শুক্লা। তিনি বলেন, ‘দেশের সংবিধান ও আইন প্রত্যেককেই অধিকার লঙ্ঘিত হলে প্রতিবাদের অধিকার দিয়েছে।’ সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র অনুরাগ ভাদোরিয়া বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলে অভিযোগ করে বলেন, যখন থেকে বিজেপি এখানে ক্ষমতায় এসেছে, সব ইস্যুর সঙ্গেই জাতপাত ও ধর্মকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। কর্ণাটকের ওয়াকফ বোর্ড ইতিমধ্যেই রাজ্যের সর্বত্র রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে মসজিদ ও দরগায় আজানের সময় মাইকের ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, শব্দদূষণ রোধ করতেই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।