ঘুমের ওষুধ মেশানো হত দিয়োগোর বিয়ারে

102

বুয়েনস আয়ার্স : দিন যায় আর নয়া তথ্য সামনে আসে। ফুটবলের রাজপুত্র দিয়োগো মারাদোনার মৃতু্য় নিয়ে তদন্ত করছে স্থানীয় প্রশাসন। আর তাতেই কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বের হয়ে আসছে। তদন্তকারীদের কাছে মুখ খুলে দিয়োগোর ছেলে দিয়েগুইতো ফের্নান্দোর মনোবিদ গ্রিসেল্ডা মোরেল জানিয়েছেন, রাতে যাতে বিরক্ত না করেন তাই মারাদোনার বিয়ারে ঘুমের ওষুধ মেশানো হত। তাঁর দাবি, মারাদোনার রাঁধুনী মিলাগ্রোস রডরিগেজের সঙ্গে এই নিয়ে কথাও বলেন।

মৃত্যুর আগে মারাদোনাকে দেখতে গিয়েছিল তাঁর নাবালক পুত্র দিয়েগুইতো। সেসময় তাঁর সঙ্গী হয়েছিলেন গ্রিসেল্ডাও। তাঁর দাবি, তিনি গিয়ে জানতে পারেন দিয়োগোকে বিয়ারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে। এই নিয়ে তিনি রাঁধুনির সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, রাতে বিরক্ত হওয়া এড়াতে মারাদোনার এক অভিভাবক এই কাজ করছেন। যদিও কোন অভিভাবক এই ঘটনার পেছনে রয়েছে, তা জানতে পারেননি গ্রিসেল্ডা।

- Advertisement -

এই বিষয়ে গ্রিসেল্ডার বক্তব্য, আমাকে বলা হয়, মারাদোনার ইচ্ছাতেই এই কাজ হচ্ছে। মারাদোনা ঘুমোনোর জন্য এই কাজ করতে বলেছিল। মারাদোনা যদি সকালে ঘুম থেকে উঠে বিয়ার চাইত, তবে ওরা সেটাই করত। তাঁর আরও দাবি, দিয়োগো আমাকে বাথরুম নিয়ে অভিযোগ করেছিল। ওকে ওপরের বাথরুমে নিয়ে গিয়ে হোসপাইপ দিয়ে স্নান করানো হত। এমনকি একবার মারাদোনাকে কোনও ডিভাইস ছাড়াই ফোনে কথা বলতেও দেখা গিয়েছে বলে তিনি জানান।

মারাদোনার মৃত্যুতে কোনও গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই নিয়ে একটি অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলাও দায়ের করা হয়েছে। সেই তদন্তেই মারাদোনার কাছের লোকেদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। এর আগে প্রয়াত কিংবদন্তির নিউরো সার্জন লিওপোল্ডো লুক সহ একাধিক চিকিৎসক ও নার্সের সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। লুক এবং মনোবিদ অগাস্তিনা কোসাচভের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশিও চালানো হয়।

তদন্তের সূত্রেই লুক ও কোসাচভের হোয়াটসঅ্যাপে চালাচালি হওয়া টেক্সট আর অডিও মেসেজ ফাঁস হয়েছে। সেখানে একটি অডিও মেসেজে লুককে বলতে শোনা গিয়েছে, মনে হচ্ছে মোটা বুড়োটা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছে। ও নিজেই নিজেকে শেষ করল। জানি না ঠিক কী হয়েছে। আমি এখন ওখানে যাচ্ছি। এমনকি লুক ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই নিজের এক পার্টনারকে মারাদোনার মৃত্যু হয়েছে বলে ঘোষণা করতে বলেন। এরপরেই আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম কিংবদন্তির মৃত্যুর খবর জানায়। পাশাপাশি কোসাভেকে একটি অডিও মেসেজে বলতে শোনা গিয়েছে, আমরা গিয়ে দেখি ওর শরীর ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। অ্যাম্বুল্যান্স আসতে দেরি হওয়ায় আমরা ওর শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক করার চেষ্টা করি। কিছুক্ষণ পর শরীরের উত্তাপ বাড়ে। তারপর অ্যাম্বুলেন্স আসে। এই মেসেজ শোনার পর বমি করে ফেলেন বলে দাবি মারাদোনার মেয়ে ডালমার।