স্লুইস গেট চুইয়ে জল, আশঙ্কায় আলিপুরদুয়ার

104

মণীন্দ্রনারায়ণ সিংহ, আলিপুরদুয়ার : বর্ষার শুরুতেই ডিমা নদীর জলস্তর বাড়তে থাকায় বাঁধের স্লুইস গেট লিক করে জল ঢুকছে শহরের সুরক্ষিত এলাকায়। আর এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন শহরবাসী। এখনই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে ভরা বর্ষায় গোটা এলাকা প্লাবিত হওয়া এখন শুধু সময়ে অপেক্ষা, বলছেন তাঁরা। যদিও সেচ দপ্তরের দাবি, শহরের সবকটি স্লুইস গেট রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। কোথাও সমস্যা থাকলে তা মিটিয়ে ফেলা হবে। সেচ দপ্তরের আলিপুরদুয়ারের নির্বাহী বাস্তুকার প্রিয়ম গোস্বামী বলেন, শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে একটি স্লুইস গেটে ত্রুটির কথা স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আমাদের সমস্ত স্লুইস গেটে নিয়মিত মেরামতির কাজ করা হয়। ওখানকার ওই সমস্যা দপ্তরের কর্মীদের খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে।

কালজানি ও ডিমা নদীর জল ঢুকে যাতে শহর প্লাবিত না হয় তার জন্য শহরের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে উঁচু বাঁধ সহ ১৫টি স্লুইস গেট রয়েছে। কিন্তু স্লুইস গেটগুলি শহরের সুরক্ষার কাজে কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

- Advertisement -

বুধবার ডিমা নদীতে কয়েক ঘণ্টার জন্য জলস্তর অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। বাঁধের এপারে শহরের নালা ও ঝিলগুলির জল তখন তলানিতে। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কালীবাড়ি এলাকায় স্লুইস গেট বন্ধ থাকলেও গেটের ফাঁক দিয়ে তখন হুহু করে শহরে জল ঢুকতে দেখেন বাসিন্দারা। অরবিন্দনগর, পিলখানা এলাকার কিছু বাড়িতেও নদীর জল ঢুকে গিয়েছিল। তবে নদীর জলস্তর কমতেই বসতি এলাকা থেকে জল নেমে গিয়েছে। বাসিন্দাদের বক্তব্য, এখনই যদি এই অবস্থা হয় তবে ভরা বর্ষায় তাঁদের ভোগান্তি চরম আকার নিতে পারে।

পিলখানা এলাকার বাসিন্দা গৌতম সাহার কথায়, ভরা বর্ষায় আমাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়। স্লুইস গেটগুলো আদৌ কতটা কার্যকর রয়েছে,  তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ভরা বর্ষায় নদীতে জল বাড়লে এবারেও ঘরবাড়িতে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। শহরের বেলতলা, সূর্যনগরের একাংশ গতবছরও জলের তলায় ছিল। বাসিন্দাদের দাবি, গতবছরও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্লুইস গেট লিক করে শহরে জল ঢুকেছিল। পরে যদিও গেট মেরামতি হওয়ায় বড়সড়ো ভোগান্তি হয়নি।

সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কালজানি ও ডিমা নদীর বাঁধে থাকা ১৫টি স্লুইস গেটের অধিকাংশই প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো। দপ্তরের কর্মীরা জানিয়েছেন, গেটের নীচে অনেক সময় জঞ্জাল, পলি, মাটি আটকে থাকায় গেট পুরোপুরি বন্ধ না হলে নদীর জল প্রবেশ করতে পারে। নিয়মিত গেটগুলির মেরামতির কাজও দপ্তর থেকে করা হয়। আলিপুরদুয়ার পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান আশিস দত্ত বলেন, বহু পুরোনো স্লুইস গেটগুলি লিক হয়ে শহরে জল প্রবেশ করলে সেটা খুবই উদ্বেগের, এটা গুরুত্ব দিয়ে সেচ দপ্তরের দেখা উচিত।

বৃষ্টির জলে শহর যাতে না ভাসে তার জন্য ইতিমধ্যে আলিপুরদুয়ার পুরসভা চারটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প কিনতেও উদ্যোগী হয়েছে। কিন্তু স্লুইস গেট দিয়ে নদীর জল শহরে ঢুকে পড়লে পাম্প বসিয়ে আদৌ কতটা লাভ হয়, সেটাও স্থানীয়দের পাশাপাশি পুরসভার কর্মীদের একাংশের মধ্যেও ইতিমধ্যে চিন্তা বাড়িয়েছে। যদিও পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান মিহির দত্ত বলেন, স্লুইস গেটগুলির কোথাও ত্রুটিবিচু্য়তি থাকলে, সেচ দপ্তরের কর্মীরা শীঘ্রই মেরামতির কাজ শেষ করবেন। ভরা বর্ষায় কালজানি ও ডিমা নদী মিলেমিশে একাকার হয়ে নদীর জলস্তর আলিপুরদুয়ার শহরের ভূপৃষ্ঠের অনেক উপর দিয়ে বইতে পারে। ওই সময় স্লুইস গেটগুলি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়ে শহরে জমা জল পাম্পের সাহায্যে নদীতে বের করে দেওয়া হবে।