বিধিনিষেধের জেরে ধুঁকছে আলিপুরদুয়ারের ছোট কারখানা

94
প্রতীকী ছবি

প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার : কড়া বিধিনিষেধের জেরে আলিপুরদুয়ারে ছোট কারখানা ও কুটিরশিল্প ধুঁকছে। কমসংখ্যক কর্মী নিয়ে কাজ করার ফলে অনেকে কাজ হারিয়েছেন। আলিপুরদুয়ারে বিভিন্ন  ফুড প্রোডাক্ট কারখানা যেমন- চানাচুর, বেকারি  বেশি। এছাড়া, রাইস মিল, কোল্ড স্টোরেজ, বিভিন্ন হস্তশিল্প, কাঠ ও বাঁশের কুটিরশিল্প, তাঁত, আলমারি তৈরির কারখানা, মৃৎশিল্পের কারখানা রয়েছে। একটা বড় অংশের কর্মী কাজ হারিয়েছেন। গ্রামীণ এলাকার কর্মীদের বেশিরভাগ বাড়ি ফিরে গিয়েছেন।

আলিপুরদুয়ারে অনেক চানাচুর ও বিস্কুটের কারখানা রয়েছে। রাইস মিল রয়েছে ১১টি। কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে ছয়টি। সর্ষের তেল তৈরির কারখানা, কাঠের আসবাবপত্রের কারখানা, বাঁশ ও বেতের কারখানা রয়েছে। কিন্তু কড়া বিধিনিষেধের জেরে নির্দিষ্ট সময়ে জন্য দোকানপাট খোলা থাকছে। বিক্রি কমে যাওয়ায় উত্পাদিত জিনিসপত্র মজুত হয়ে পড়ে থাকছে। ফলে অনেক কারখানা কর্মী ছাঁটাই করেছে।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার জেলা শিল্পকেন্দ্র সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর লকডাউনের পর ছোট শিল্প, কারখানার জন্য ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। আগের তুলনায় ঋণের পরিমাণ ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু এবার ফের বিধিনিষেধে এই সমস্ত শিল্প সংকটে পড়েছে।

আলমারি তৈরির কারখানার কর্মী সমীর তালুকদার বলেন, গত বছর লকডাউনের জন্য কারখানা বন্ধ ছিল। চলতি বছরে ফের কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। কাজ নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কারখানা খোলার কথা রয়েছে। বেকারি কর্মী কমল রায় বলেন, কম কর্মী নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সপ্তাহে কয়েকদিন কাজ করতে পারছি। কাজ না পেয়ে অনেকেই বাড়ি ফিরে গিয়েছেন।

একটি বেকারির তরফে দিলীপকুমার সাহা বলেন, একদিন জিনিস তৈরি করলে দুদিন লাগছে বিক্রি করতে। ফলে অর্ধেক কর্মী নিয়ে কাজ হচ্ছে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে দোকানপাট খোলা রয়েছে। বাইরের লোকজন আসছে না। ফলে আর্থিক সমস্যা বাড়ছে। ঋণ শোধ করতে অনেককে সমস্যায় পড়ছে হচ্ছে।

আলিপুরদুয়ার জেলা শিল্পকেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার বিভাস বসু বলেন, কারখানাগুলির অবশ্যই সমস্যা হওয়ার কথা। তবে আলিপুরদুয়ারে বড় শিল্পকারখানা তেমন নেই।  বিভিন্ন ফুড প্রোডাক্ট ছাড়াও রাইস মিল, কাঠ ও বাঁশের কুটিরশিল্প রয়েছে। গত বছর শিল্প, কলকারখানার জন্য ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ঋণের পরিমাণ ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। চলতি বছরেও রাজ্য সরকারের তরফে বিধিনিষেধ উঠলে নতুন কিছু সুবিধা দেওয়া হতে পারে।