লকডাউনে উত্তরবঙ্গের ছোট শিল্প ইউনিটে ব্যাপক ক্ষতি

399

পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: উত্তরবঙ্গে দ্রুত মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ইউনিটগুলিকে ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণের ব্যবস্থা করা ও ধাপে ধাপে সব ইউনিট চালুর দাবি জানাল নর্থবেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন। লকডাউনের জেরে উত্তরবঙ্গে মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং বটলিফ ফ্যাক্টরিতে ক্ষতি হয়েছে ২ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা।

লকডাউনের ৪৫তম দিনে উত্তরবঙ্গের ১০ হাজার মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বটলিফ ফ্যাক্টরিগুলির ক্ষতি হয়েছে ৮৫০ কোটি টাকা। শিল্প ইউনিটগুলি বন্ধ থাকায় জিএসটি সহ অন্য রাজস্ব বাবদ রাজ্য সরকারের ক্ষতি হয়েছে ৪২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। নর্থবেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুরজিৎ পাল এই নিয়ে রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব রাজেশ পান্ডের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন। কনফারেন্সে জলপাইগুড়ির জেলা শাসক, জেলা শিল্পকেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার উপস্থিত ছিলেন। সুরজিৎবাবু জানান, মালদা থেকে কোচবিহার পর্যন্ত মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরনের প্রায় ১০ হাজার শিল্প ইউনিট রয়েছে। কিন্তু লকডাউনের সময় অধিকাংশই বন্ধ ছিল। এখন সরকারি নির্দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং অন্য জরুরি সামগ্রী উৎপাদনকারী ৫৪ শতাংশ ইউনিট খুলেছে। শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব আশ্বস্ত করে জানান, ধাপে ধাপে গুরুত্ব অনুযায়ী তাঁরা এগোতে চাইছেন। জেলা শাসক ও জেলা শিল্পকেন্দ্রকে বিষয়গুলি স্থানীয় স্তরে দেখতে বলেন।

- Advertisement -

এদিন সুরজিৎ পাল জানান, কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে কোনও গ্যারান্টি ছাড়া শিল্প ইউনিটগুলিকে ব্যাংক ঋণ দেওযা হবে। কিন্তু ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়া ঋণ দিতে চাইছে না। ডিটারজেন্ট, ফিনাইল প্রস্তুতকারক ইউনিটগুলি খোলার অনুমতি দেওয়া হলে প্যাকেজিং ইউনিট খুলতে দেওযা হয়নি। ফলে সমস্যা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গে প্রায় ১২৫টি চা তৈরির বটলিফ ফ্যাক্টরি আছে। প্রতিটি ফ্যাক্টরিতে তৈরি হয়ে যাওয়া ৪ লক্ষ কেজি চা নষ্ট হয়েছে। তিনি আরও জানান, পাইপ, স্টিলের সরঞ্জামের ইউনিট চালু করা হলেও সরকারি বা সরকারি কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্মাণ সংস্থাগুলি সে সব কিনছে না। ফলে এই ধরনের শিল্প ইউনিটগুলি ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিবকে জানান সুরজিৎবাবু। শিল্প ইউনিটগুলির বিদ্যুৎ বিলের বিষয়েও রাজেশ পান্ডেকে জানানো হয়েছে। জেলা শাসক অভিষেককুমার তেওয়ারি জানান, জেলার সব কটি শিল্প বিকাশ কেন্দ্রে এবং তার বাইরে বিভিন্ন ধরনের শিল্প ইউনিট চালু করা হয়েছে। শিল্প সংগঠনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছি। বাকি বিষয়গুলি জেলা শিল্প কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজ্যকে সার্বিক বিষয়ে জানানো হবে। ভিডিও কনফারেন্সে জেলা শিল্প কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার চন্দন পাল, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি শিল্পাঞ্চলের কর্তা মোহন দেব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।