কর মকুরের ফায়দা নিয়ে কৃষিজমিতে কারখানা, তদন্তে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর

238

শুভাশিস বসাক, ধূপগুড়ি : অনেক আগেই কৃষিজমির কর মকুব করা হয়েছে। আর ওই কর মকুরের ফায়দা নিয়ে কৃষিজমিতে কর না দিয়ে কারখানা নির্মাণ ও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু করেছে ধূপগুড়ি ব্লক প্রশাসন। পাশাপাশি ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপের তালিকা নথিভুক্ত করছেন। প্রায় দুই থেকে আড়াই বছর আগে রাজ্য সরকার কৃষিজমির কর মকুব করে দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, যেহেতু কৃষিজমির কর নেওয়া হয় না, তাই কর ফাঁক দিয়ে কৃষিজমিতেই ছোটখাটো কারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে। ব্লকের কয়েকটি এলাকায় এই ধরনের ঘটনা লক্ষ্য করা গিয়েছে। কৃষিজমিতে কারখানা গড়তে গেলে প্রথমে নির্দিষ্ট জমিকে কৃষি থেকে অকৃষি জমিতে রূপান্তর করতে হয়। তারপর ওই কর যোগ্য অকৃষি জমিতে কারখানা গড়া যায়। অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই নিয়ম না মেনেই কারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে।

ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামীণ এলাকায় প্রতি বিঘা জমি হিসেবে অকৃষি জমির জন্যে ২৯ টাকা কর দিতে হয়। কিন্তু অনেকেই বছরের পর বছর কর দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ। কর না দিলে অবশ্য প্রতি বছরে করের ওপর আলাদাভাবে জরিমানার অঙ্ক ধার্য হতে থাকে। তাতেও অনেকে তোয়াক্কা করেন না। এখন কর ফাঁকি দেওয়ার নতুন ফন্দি বের করেছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা। দেদার কৃষিজমির উপর কারখানা নির্মাণ করে ব্যবসা করে চলেছেন। এই ধরনের ঘটনা শুধু ধূপগুড়িতেই নয়, আশপাশের এলাকাতেও একইভাবে কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। তবে এইসব অসাধু ব্যবসাযীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর।

- Advertisement -

সম্প্রতি ধূপগুড়ির বিডিও শঙ্খদীপ দাস ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক প্রসেনজিৎ ভট্টাচার্য কয়েটি জমি ঘুরে দেখেছেন। তাঁরা দেখেছেন, আগে ওই সব জমিতে চাষের কাজ হত।   কিন্তু সেখানে বর্তমানে নির্মাণ কাজ চলছে। ওই জমি কৃষি না অকৃষি সেটা প্রথমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ওই জমিগুলি নিয়ে এখনই প্রকাশ্যে কিছুই বলতে চায়নি ব্লক প্রশাসন। ভূমি সংস্কার আধিকারিক প্রসেনজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, কৃষিজমির কর অনেক আগেই মকুব করা হয়েছে। কিন্তু অকৃষি জমির কর আদায় করা হয়। ব্লকের কয়েটি এলাকায় কৃষিজমিতে ছোটখাটো নির্মাণ করে ব্যবসা করার ঘটনা নজরে এসেছে। কৃষিজমিকে অকৃষি জমিতে রূপান্তর করার নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। সেগুলি মানা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।