কাঁচা পাতার ন্যায্য দামের দাবিতে কেন্দ্রের দ্বারস্থ ক্ষুদ্র চা চাষিরা

126

নাগরাকাটা: আখের মতো কাঁচা চা পাতারও ন্যায্য দাম বেঁধে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রকের দ্বারস্থ হল ক্ষুদ্র চা চাষিদের সর্বভারতীয় সংগঠন কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিস্টা)। তা ৩০ টাকা প্রতি কিলো হওয়া প্রয়োজন বলে কেন্দ্রকে জানিয়েছেন ক্ষুদ্র চা চাষিরা। গত বৃহস্পতিবার নয়া দিল্লির উদ্যোগ ভবনে এনিয়ে মোট ছয় দফা দাবিতে সিস্টার দুই সদস্যর প্রতিনিধি শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেলের সঙ্গে দেখা করেন। বর্তমানে মন্ত্রকের পক্ষে অনুপ্রিয়াই বাগিচা শিল্পের বিষয়গুলি দেখছেন। তাঁদের মধ্যে ২৫ মিনিটের কথা হয়। মন্ত্রীর কাছে সিস্টার তরফে একটি স্মারকলিপিও তুলে দেওয়া হয়।

সংগঠনের সভাপতি ও জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সম্পাদক বিজয় গোপাল চক্রবর্তী জানান, তাঁদের প্রতিটি দাবিতে যে জোরাল যুক্তি রয়েছে তা মন্ত্রী মেনে নিয়েছেন। মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তাঁরা সন্তুষ্ট। কেন্দ্র সরকার ক্ষুদ্র চা চাষিদের উন্নয়নে বদ্ধপরিকর বলে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন। এরপর আগামী ১৯ নভেম্বর গুয়াহাটিতে চা মহলের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের। তাঁর কাছেও একই দাবির কথা তুলে ধরতে প্রস্তুতি শুরু করেছে ক্ষুদ্র চা চাষিরা।

- Advertisement -

ঠিক কী চাইছেন তাঁরা? সিস্টা জানাচ্ছে, বর্তমানে গোটা দেশের মোট চা উত্পাদনের ৫১ শতাংশই আসে তাঁদের বাগানের কাঁচা পাতা থেকে। উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে ওই পরিমাণ এখন ৬০ শতাংশ। সর্বভারতীয় প্রেক্ষাপটে ক্ষুদ্র চা চাষিদের সংখ্যা ৩ লক্ষ। উত্তরের ৬টি জেলা মিলিয়ে ক্ষুদ্র চা চাষের সঙ্গে সরাসরি জড়িত এমন চাষির সংখ্যা ৫০ হাজার। এখানে চাষ হয় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে। গ্রামীণ অর্থনীতির ক্ষেত্রে বর্তমানে ক্ষুদ্র চা চাষ অন্যতম চালিকা শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও ন্যায্য দাম প্রাপ্তির বিষয়টি তাঁদের এখনও অনিশ্চিত। আঁখের মতো কাঁচা পাতার কিলো প্রতি দাম যদি অন্তত ৩০ টাকা বেঁধে দেওয়া হয় তবে ওই অনিশ্চয়তা ও অভাবী বিক্রির ঘটনা দূর হতে পারে।

কেন্দ্রের কাছে ক্ষুদ্র চা চাষিরা তাঁদের উন্নয়নে আলাদা ডেডিকেটেড বরাদ্দের দাবির কথাও জানিয়ে এসেছে। পাশাপাশি যথাযথ ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ক্ষুদ্র চা চাষিদের কাঁচা পাতা থেকে উত্পাদিত উচ্চ গুণগতমানের তৈরি চা যাতে বিদেশে রপ্তানি হয় তেমন পদক্ষেপ করার আর্জিও তাঁরা জানিয়েছে। তুলে ধরা হয়েছে ১৯৫৩ সালের টি অ্যাক্ট-এর সংস্কার করে তা চা শিল্প বান্ধব করা হোক। চা শিল্পে লাইসেন্স রাজের অবসান ও সেইসঙ্গে টি বোর্ডের ভূমিকা যাতে ওই শিল্পের উন্নয়ন কেন্দ্রিক হয় এমনটা নিশ্চিত করার দাবির কথা এদিন জানানো হয়েছে। এছাড়াও প্রথাগত কৃষকরা যেসমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা পান তাতে চা চাষিদেরও অন্তর্ভুক্ত করার দবি উঠে এসেছে। টি বোর্ডের কমিটিতে ক্ষুদ্র চা চাষিদের প্রাধান্য দেওয়ার কথাও তুলে ধরা হয় সিস্টার তরফে।

বিজয় গোপাল চক্রবর্তী বলেন, ‘আগামী দিনে চা শিল্পের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের নজর যে ক্ষুদ্র চা চাষি কেন্দ্রিকই হতে চলেছে এমন আভাস মিলেছে। যদি প্রকৃতই সেটা হয় তবে আমরা স্বাগত জানাব।’ মন্ত্রীর সঙ্গে সিস্টার প্রতিনিধিদের আলোচনার সময় উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রকের জয়েন্ট সেক্রেটারি (প্ল্যান্টেশন) দিবাকর নাথ মিশ্র ও ডেপুটি সেক্রেটারি (প্ল্যান্টেশন) পারুল সিং। সিস্টার তরফে বিজয় গোপাল চক্রবর্তী ছাড়াও ছিলেন অল অসম স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক করুণা মোহন্ত।