ক্ষুদ্র চা চাষিদের স্মার্ট চাষিতে পরিণত, প্রশিক্ষণ টি বোর্ডের

95

নাগরাকাটা: উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা চাষিদের স্মার্ট চাষিতে পরিণত করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করল টি বোর্ড। চা গবেষণা সংস্থার উত্তরবঙ্গ আঞ্চলিক গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা ওই চাষিদের চা চাষের বিজ্ঞানসন্মত কলাকৌশল নিয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। সোমবার থেকে টিআরএ-র নাগরাকাটা ক্যাম্পাসে ৫ দিনের আবাসিক শিবিরটি শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে আলিপুরদুয়ার জেলার ১৫ জন চা চাষিকে এর আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

আগামী মার্চ মাসের মধ্যে উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলার চাষিদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এদিন প্রশিক্ষণ শিবিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআরএ-র নাগরাকাটা শাখার চিফ অ্যাডভাইসারি অফিসার ডাঃ আজরাইয়া বাবু, টিআরএ-র উত্তরবঙ্গ কমিটির চেয়ারম্যান শিব কুমার সারিয়া, এরিয়া সায়েন্টিফিক চেয়ারম্যান আশিস কুমার বালি, নিউ ডুয়ার্স চা বাগানের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার লিওনার্দো স্মিথ, চা মালিকদের সংগঠন টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার ডুয়ার্স শাখার চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র সিং খাঙ্গারুট, টি বোর্ডের উন্নয়ন আধিকারিক বিমান সাহা প্রমুখ।

- Advertisement -

টি বোর্ডের শিলিগুড়ি জোনের উপ নির্দেশক রমেশ কুজুর বলেন, ‘প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর ওই চাষিরা স্মার্ট চাষিতে পরিণত হবেন। এরপর তাঁরা নিজেদের এলাকায় অন্য চাষিদেরও প্রশিক্ষণ দেবেন। যাবতীয় কোভিড প্রোটোকল মেনে শিবিরটি শুরু করা হয়েছে। আলিপুরদুযার জেলার চাষিরা প্রথম এধরনের প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন।’
টিআরএ-র নাগরাকাটা শাখার অ্যাগ্রোনমি বিভাগের প্রধান ডাঃ সোমেন বৈশ্য বলেন, ‘চা চারা রোপণ, জল সেচ পদ্ধতি, রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে পরিণত গাছ ছাটাই সমস্ত কিছু শেখানো হচ্ছে। বড় বাগান পরিদর্শনেও তাঁদের নিয়ে যাওয়া হবে। প্রশিক্ষণের শেষে মিলবে সংশাপত্র।’

টি বোর্ড জানিয়েছে, আলিপুরদুয়ার জেলাতেও বর্তমানে ক্ষুদ্র চা চাষের পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। সেখানকার মাদারিহাট, ফালাকাটা, মেজবিলের মতো নানা স্থান মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিনশো চাষি এখন কাঁচা পাতা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। ইতিমধ্যেই টি বোর্ডের তরফে ওই স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের চা চাষের নানা আধুনিক যন্ত্রপাতিও সরবরাহ করা হয়েছে। টি বোর্ডের অর্থানুকূল্যে ৪ জেলা মিলিয়ে মোট ৬০ জন চাষিকে স্মার্ট চাষিতে পরিণত করার লক্ষ্য হাতে নেওয়া হয়েছে।

জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সম্পাদক বিজয় গোপাল চক্রবর্তী বলেন, ‘অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। যারা প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন তাঁরা মাস্টার ট্রেনারে পরিণত হয়ে অন্য চাষিদেরও প্রশিক্ষণ দেবেন। এতে উপকৃত হবে উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা চাষ।’