সাইকেলের বদলে স্মার্টফোন, জল্পনা

2464

কৌশিক সরকার, দিনহাটা: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের জেরে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস ধরে বন্ধ স্কুলের পঠনপাঠন। ফের কবে স্কুল খুলবে, কবে পঠনপাঠন শুরু হবে, তা এখনও অনিশ্চিত। এমতাবস্থায়  স্কুলের শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে দেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। পাশাপাশি, সম্প্রতি শিক্ষা দপ্তর রাজ্যের স্কুলগুলির কাছে পড়ুয়াদের ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে। এরপর থেকে গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলির পড়ুয়াদের অভিভাবক মহলের একাংশে শুরু হয়েছে জল্পনা। তবে কি এবার পড়ুয়াদের স্মার্টফোন দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে? এনিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের একাংশের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার চাইলে পড়ুয়াদের (বিশেষ করে উঁচু ক্লাসের) অনলাইন ক্লাসের আওতায় আনার জন্য এমন পদক্ষেপ করতেই পারে। সেক্ষেত্রে সামনের বছরের ভোটের আগে সেটা হবে সেরা চমক। তবে বিরোধী শিক্ষক সংগঠনগুলোর মত, অনলাইন ক্লাস কখনোই ক্লাসরুমে পাঠদানের বিকল্প হতে পারে না।

পরিবর্তে শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছে তারা। তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের কোচবিহার জেলা সম্পাদক মিঠুন বৈশ্য বলেন, শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে দেওয়া হলে পড়ুয়াদের অনেকটাই সুবিধা হবে। ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য চাওয়া প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, এটা শিক্ষা দপ্তরের একটা সমীক্ষাও হতে পারে।

- Advertisement -

উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, রাজ্য সরকার বরাবরই পড়ুয়াদের প্রতি ভীষণ মানবিক। তাই শিক্ষাশ্রী, কন্যাশ্রী, ঐক্যশ্রী ইত্যাদি নানা প্রকল্প চালু করেছে। পাশাপাশি স্কুলপড়ুয়াদের বই-খাতা, ব্যাগ, ইত্যাদি দেওয়া হচ্ছে। তবে ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে এখনও কোনও আলোচনা হয়নি। ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে বন্ধ রয়েছে এরাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এ অবস্থায় পড়ুয়াদের পঠনপাঠন অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগের বিষয়।

অন্যদিকে, মিড-ডে মিল সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের একটি নির্দেশিকা থেকে জানা গিয়েছে, আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত মিড-ডে মিল প্রকল্পে পড়ুয়াদের জন্য খাদ্যসামগ্রী বিলির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এ কারণে অনেকের ধারণা, নভেম্বরের আগে স্কুল খুলছে না। তাই যদি হয় তবে, চলতি শিক্ষাবষের্র কেবলমাত্র একটি মাস অর্থাৎ ডিসেম্বর  থাকবে।

এবিটিএ-র কোচবিহার জেলা সম্পাদক সুজিত দাস বলেন, স্কুল পড়ুয়াদের কথা ভেবে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা সহ শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে দেওয়া উচিত।

তাঁর কথায়, অনলাইন শিক্ষা কখনোই ক্লাসরুম পঠনপাঠনের বিকল্প হতে পারে না। এটি স্থায়ী সমাধান  নয়। তাছাড়া স্কুল পড়ুয়াদের স্মার্টফোন ব্যবহারের কুফলও রয়েছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সংঘের জেলা সভাপতি সুমন কর্মকার বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুল পড়ুয়াদের স্মার্টফোন ব্যবহারের পক্ষে নই আমরা। শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে দেওয়া হলে পঠনপাঠনের ক্ষতিটা অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব। তবে স্কলু পড়ুয়াদের অভিভাবকদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবজু সাথী প্রকল্পের সাইকেলের পরিবর্তে পর্ড়ুয়াদের স্মার্টফোন দেওয়া হলে তা কাজে লাগবে।

শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পড়ুয়াদের কত শতাংশ ডিজিটাল ডিভাইস (স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ইত্যাদি) ব্যবহার করছে তা নিয়ে স্কুলগুলোর কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। সেই সমস্ত তথ্য রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরে পাঠানো হবে। কোচবিহার জেলার বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, জেলার গ্রামাঞ্চলে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারকারী পড়ুয়ার সংখ্যা খুবই নগণ্য। শহরাঞ্চলেও সংখ্যাটা খুব বেশি নয়।