১০০ নতুন পদ চাইছে শিলিগুড়ি পুরনিগম

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসনিক কাঠামোয় খোলনলচে পরিবর্তন করতে চায় প্রশাসকমণ্ডলী। সেই কারণে একশোটিরও বেশি নতুন আধিকারিক-কর্মীর পদ তৈরি করে তা অনুমোদনের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে পাঠিয়েছে তারা। কেন তাদের নতুন পদে কর্মী, আধিকারিক প্রয়োজন তার ব্যাখ্যা চেয়ে এবং সেই সংক্রান্ত বেশকিছু নথি সহ রাজ্য পুর দপ্তর থেকে একটি রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে পুরনিগমের কাছে। সেই অনুসারে রিপোর্ট তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে বলেই পুরনিগমের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মহল বলছে, আগামী পুরভোটের দিকে তাকিয়ে অশোক ভট্টাচার্যদের এই পদক্ষেপ। তাঁরা পুরনিগমের কর্মীদের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠার পাশাপাশি শিলিগুড়িবাসীকে কর্মসংস্থানে বার্তা দিতে চাইছেন।

তিনটি ক্যাটিগোরিতে নতুন পদ তৈরি করেছে পুরনিগম। নতুন যেসব পদে কর্মী চাওয়া হয়েছে সেগুলির মধ্যে চিফ ইঞ্জিনিয়ার, চিফ আর্কিটেক্ট, ডেপুটি কমিশনার (রেভিনিউ), চিফ অডিটর, এনভায়রনমেন্ট অফিসার, ভিজিলেন্স অফিসার, ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক, বিপর্যয় মোকাবিলা আধিকারিকের মতো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ আছে। পুর প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান অশোক ভট্টাচার্য বলেন, বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার জন্য প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনা জরুরি। পুরনিগম গঠন হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ এতদিন তৈরি করা হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেগুলিতে কোনও নিয়োগও হয়নি। আমরা যেসব নতুন পদ তৈরি করেছি। সেগুলি একটি পুরনিগম চালানোর জন্য অত্যন্ত জরুরি। পুরমন্ত্রীর সঙ্গে আমার একাধিকবার কথা হয়েছে। দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। আমাদের তৈরি করা পদগুলি অনুমোদনের ব্যাপারে রাজ্য সরকার সদর্থক বার্তা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য আধিকারিকের একটি পদ অনুমোদিতও হয়েছে। প্রশাসনিক পরিকাঠামোর পরিবর্তন হলে শিলিগুড়ির উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

- Advertisement -

নিজস্ব আয় বাড়াতে দীর্ঘদিন থেকেই চেষ্টা চালাচ্ছেন অশোক ভট্টাচার্যরা। সেই সংক্রান্ত পরিকল্পনা তৈরি করতে এবং রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়টি তদারকিতে একজন রেভিনিউ কমিশনার জরুরি বলেই মনে করছেন পুর আধিকারিকরা। সম্প্রতি পরিবেশের উপর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রূপায়ণের কাজ শুরু করেছে পুরনিগম। সেই পরিকল্পনা অনুসারে শহরের ২, ৩, ৩১, ৩২, ৪৫, ৪২, ৪৩ এবং ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে মহানন্দার চরে প্রায় ২০ হেক্টর জমির উপর তৈরি হচ্ছে আরবান ফরেস্ট। দূষণ নিয়ন্ত্রণেও ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করে কাজ শুরু করেছে পুরনিগম। পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়গুলি দেখভালের জন্য একজন এনভায়রনমেন্ট অফিসার চাইছেন অশোকবাবুরা। বিভিন্ন সময় পুরনিগমের কাজকর্ম নিয়ে নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তবে পুরনিগমে কোনও ভিজিলেন্স অফিসার না থাকায় তদন্তে সমস্যা হচ্ছে। সেই কারণে ভিজিলেন্স অফিসারও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনই পুরনিগমে জমি সংক্রান্ত নানা সমস্যা আসে। পুরনিগমের নিজস্ব জমি নিয়ে বিভিন্ন জটিলতা আছে। কিন্তু পুরনিগমের নিজস্ব কোনও ভূমি সংস্কার আধিকারিক নেই। কোনও জনসংযোগ আধিকারিকও নেই। দুটি ক্ষেত্রেই নতুন পদ তৈরি করে আধিকারিক চেয়েছে পুরনিগম।

পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি পুরনিগমের তরফে নতুন পদ তৈরি করে তা অনুমোদনের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। ২৯ অক্টোবর রাজ্য পুর দপ্তর থেকে পুরনিগমে চিঠি পাঠিয়ে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। পুরনিগমের এক আধিকারিক বলেন, একদম শুরু থেকেই আমাদের অনেক দপ্তরে করণিকরাই যাবতীয় কাজ করছেন। ফলে একদিকে যেমন পরিকল্পনা করা যাচ্ছে না, অন্যদিকে অনেক ত্রুটিবিচু্য়তি থেকে যাচ্ছে। বাস্তবে গোঁজামিল দিয়ে কাজ হচ্ছে। তাছাড়া এমনিতেই অনুমোদিত তিনশোরও বেশি পদে কর্মী নেই দীর্ঘদিন। তাই প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। পুরনিগমের পাঁচটি বরোতেই চুক্তিভিত্তিক আধিকারিকরা কাজ চালাচ্ছেন। সেই পদগুলিতে স্থায়ী আধিকারিক চেয়েছে পুরনিগম। সিস্টেম ম্যানেজার (আইটি), আরবান প্ল্যানার, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার, ফুড ইনস্পেকটর, ওয়াটার ওয়ার্কস সুপারিন্টেন্ডেন্ট প্রভতি পদেও কর্মী চেয়েছে পুর প্রশাসকমণ্ডলী। রাজ্য তাদের দাবি মেনে পদগুলিতে অনুমোদন দেবে বলেই আশাবাদী অশোক ভট্টাচার্য।