শিলিগুড়ি : আসি যাই, মাইনে পাই! হাজিরা খাতায় সই হচ্ছে প্রতিদিনই। কিন্তু তারপর আর টিকি দেখা যায় না। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর থাকায় বেতন নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। অতএব প্রতিমাসে পুরো বেতন পাওয়া যাচ্ছে। শিলিগুড়ি পুরনিগমের এই অদৃশ্য কর্মীদের দাপটে কর্মসংস্কৃতি একপ্রকার লাটে ওঠার জোগাড় হয়েছে। পুরনিগমের কয়েকজন কর্মী দিনের পর দিন কাজ না করেও যেভাবে পুরো বেতন পাচ্ছেন, তাতে যাঁরা নিয়মিত কাজ করছেন তাঁদের মধ্যে ফাঁকিবাজি মনোভাব তৈরি হচ্ছে। বিরোধী দলের কাউন্সিলারদের কাছ থেকে এই অভিযোগ পেয়ে বৃহস্পতিবার পুরনিগমের সচিবকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র অশোক ভট্টাচার্য।

শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৫ নম্বর বরো কমিটির চেয়ারম্যান রঞ্জন শীলশর্মার অভিযোগ, শিলিগুড়ি পুর এলাকার প্রচুর শ্রমিক রয়েছেন, যাঁরা কেউ ১৮ মাস ধরে কাজ করেন না। অনেকে ছমাস ধরে কাজ করেন না। কিন্তু যে ১৮ মাস ধরে কাজ করেন না, তাঁর অ্যাকাউন্টে ওই ১৮ মাসের টাকা ঢুকল, পিএফ কাটা হল। বরো থেকে আমরা অনুপস্থিত দেখিয়েছি। কিন্তু প্রধান বিল্ডিংয়ে গিয়ে তা বদল হয়ে যায়। পুরনিগমের এক কর্মী টাকার বিনিময়ে এই কাজ করেছেন বলে আমি শুনেছি। মেয়র, পুর কমিশনার সবাই বিষয়টি জানেন, কিন্তু তাও বেতন হয়ে গেল। রঞ্জনবাবু বলেন, দীনানাথ ত্রিপাঠী নামে একজন শ্রমিক নিয়মিত কাজে আসেন না। পুর চেয়ারম্যানের ওয়ার্ডে থাকেন। আমি বরো অফিস থেকে অনুপস্থিত লিখে পাঠিয়েছি। কিন্তু তারও পুরো বেতন হয়ে যায়। শহরের বেশ কিছু ওয়ার্ডেও এই একই চিত্র বলে অভিযোগ। মেয়র অশোক ভট্টাচার্য বলেন, শ্রমিকদের যে হাজিরা খাতা, তাতে স্বাক্ষর করেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। তাই সেই সময় যদি বিষয়টি দেখা হয় তবে এই সমস্যা থাকে না। তবুও অভিযোগ যখন উঠেছে, আমি পুরসচিবকে বলেছি বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে।

এদিকে, শিলিগুড়ি শহরে পানীয় জলের নতুন প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারের সবুজ সংকেত মেলার আর আশা রইল না। এ দিন মেয়র অশোক ভট্টাচার্য বলেন, সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্রর সঙ্গে কথা বলেছি। উনি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে নতুন প্রকল্পের মত ফান্ড নেই। তাই এই মুহূর্তে আর সেটা সম্ভব নয়। সেই কারণে আমরা বিভিন্ন জায়গায় ডিপ টিউবয়েল বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।