আবর্জনা জমালে রিটার্ন গিফট দেবে পুরনিগম

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : রিটার্ন গিফট প্যাকে মিলবে উচ্ছিষ্ট অথবা আবর্জনা। দেবে শিলিগুড়ি পুরনিগম। উচ্ছিষ্ট বা আবর্জনা যাঁরা বাড়ির সামনে ফেলেন, তাঁদের এই গিফট দেবে পুরনিগম। শিলিগুড়ির মতো শহরে কাজটা কঠিন হলেও শহরকে পরিষ্কার রাখতে এই দাওয়াইয়ের কথাই ভাবছেন পুরকর্তারা। এই পথে হেঁটে ইতিমধ্যে সাফল্য পেয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের কাঁকিনাড়া পুরনিগম। জরিমানা করে আর্থিক রোজগারও বেড়েছে ওই পুরনিগমের। তাই কাঁকিনাড়া পুরনিগমের পদক্ষেপ সম্পর্কে বিশদে খোঁজখবর নেবেন বলে জানান শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান অশোক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ছোট এলাকা হওয়ায় কাঁকিনাড়া পুরনিগমের পক্ষে যে কাজটি করা সম্ভব, সেই কাজ আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না অনেক ক্ষেত্রেই। তবে এই ধরনের পদক্ষেপ করা যেতেই পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেব। সকলের সঙ্গে আলোচনা করব। তবে এই ধরনের পদক্ষেপ করা উচিত বলে মনে করছেন নাগরিকদের একটা বড় অংশ।

সাতসকালে সাফাইকর্মীরা পাড়ায় পাড়ায় রাস্তা পরিষ্কার করলেও বেলা বাড়তেই তা পুনরায় নোংরা হয়ে যাচ্ছে। মূলত ড্রেনের আশপাশে জমে থাকছে উচ্ছিষ্ট এবং বাড়ির নোংরা। শহরের বহুতল বা আবাসনগুলির ক্ষেত্রেই এই ছবি বেশি। এর ফলে শহরকে সাফসুতরো রাখাটা যেমন কঠিন হয়ে পড়ছে পুরনিগমের পক্ষে, তেমনই রোগ-ব্যাধিও বাড়ছে। পাশাপাশি, শহর সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে বাইরের লোকেদের কাছে। পাহাড় এবং ডুয়ার্সে প্রতি বছর প্রচুর পর্যটক আসেন। তাঁরা মূলত শিলিগুড়িতে এসেই বিভিন্ন জায়গায় যান। ভৌগোলিক দিক থেকেও শিলিগুড়ির গুরুত্ব যথেষ্ট রয়েছে। এদিকে খেয়াল রেখেই শহরের একশ্রেণির নাগরিকের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে চাইছে পুরনিগম। পুরনিগমের কর্তাদের বক্তব্য, একাধিক ফ্ল্যাটবাড়িতে ডাস্টবিন নেই। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের গাড়িতেও তাঁরা উচ্ছিষ্ট বা বাড়ির নোংরা দেন না। এই ধরনের কিছু নাগরিকের জন্য শহর নোংরা হচ্ছে। তাই কড়া পথে হাঁটা প্রয়োজন।

- Advertisement -

এই কারণেই অন্ধ্রপ্রদেশের কাঁকিনাড়া পুরনিগমের মতো রিটার্ন গিফট প্যাক এর ভাবনাচিন্তা। কিন্তু রিটার্ন গিফটটা কী? যে বাড়ির সামনে উচ্ছিষ্ট বা নোংরা পড়ে থাকবে, তা সাফাইকর্মীরা তুলে নিয়ে প্যাকেট করবেন এবং সংশ্লিষ্ট বাড়িতে পেঁছে দেবেন উপহার হিসেবে। এই ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিককে নিঃসন্দেহে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে এবং প্রতিবেশীদের কাছে লজ্জায় পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে বাড়ির ড্রেনের সামনে পুনরায় নোংরা ফেলা থেকে তাঁরা বিরত থাকবেন বলে পুরকর্তাদের ধারণা। কোনও বাড়ি আমল না দিলে জরিমানা করার বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে পুরনিগম। তবে এই ব্যবস্থা কার্যকর করার আগে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকার। তিনি বলেন, কিছু মানুষের মানসিকতা খারাপ হতে পারে। কিন্তু সবার আগে প্রয়োজন ম্যানেজমেন্টের উন্নয়নসাধন। পরিকাঠামো ঠিক না থাকার জন্যও শহর নোংরা হচ্ছে।

তবে অনেকেই মনে করেন, পুরনিগম কড়া পদক্ষেপ করলেই কিছু মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটতে পারে। যেমন কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ (সিআইআই)-এর উত্তরবঙ্গের চেয়ারম্যান তথা ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সঞ্জিত সাহা বলেন, প্রাতর্ভ্রমণ করার সময় প্রায়দিনই দেখি অনেকের বাড়ির সামনে উচ্ছিষ্ট পড়ে থাকতে। যাঁরা এমন কাজ করেন, তাঁদের রিটার্ন গিফট দিলে আমার মনে হয় কিছুটা হলেও কাজ হবে। ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রবীণ নাট্যকার বিপ্রদারঞ্জন বিশ্বাসের বক্তব্য, শহরকে পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে পুরনিগমকে কঠোর পদক্ষেপ করতেই হবে। পদক্ষেপ করতে হবে রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে রেখে। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষক ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অশোক চক্রবর্তী বলেন, শহর পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে পুরনিগম যে পদক্ষেপ করবে, তাকে সিংহভাগ মানুষ সমর্থন করবে বলে আমার বিশ্বাস। রিটার্ন গিফট চালু হলে মানুষ কিছুটা হলেও সচেতন হবেন বলে মনে করি।