পুলিশ দেখে সীমান্তে চোখে জল, মুখে হাসি রুকিয়ার

63

বিধান ঘোষ, হিলি : কনভয় নজরে আসতেই উঠে দাঁড়াচ্ছেন প্রহরারত বিএসএফ জওয়ান। উজাল সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ায় কনভয় পৌঁছোতেই ওপার থেকে রুকিয়া বিবির উদ্বেগ মাখা প্রশ্ন, বর্ডারে পুলিশ কেন? হিলি থানার আইসি হাতে ব্যাগ নিয়ে সীমান্তের ফটকের কাছে যেতেই রুকিয়ার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হল। সীমান্তের কোনও ঝামেলায় এদিন পুলিশ আসেনি। তা বুঝেই চোখে জল, মুখে হাসি নিয়ে এগিয়ে গেলেন। আইসি তাঁর হাতে তুলে দিলেন মাস্ক, স্যানিটাইজার, চাল, আলু, তেল, লবণ আর সয়াবিনের প্যাকেট।

রবিবার এভাবেই দুঃস্থ মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল হিলি থানার পুলিশ। কখনও সীমান্ত গ্রামের গরিব মানুষ, আবার কখনও প্যারোলে বাড়িতে আসা সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের বাড়িতে। সবার হাতে ব্যাগ ভর্তি সামগ্রী তুলে দেন পুলিশ আধিকারিকরা। কোথাও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন ডিএসপি হেড কোয়ার্টার সোমনাথ ঝা, কোথাও আইসি গণেশ শর্মা। দুঃস্থ মানুষের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দিয়ে ঘূর্ণিঝড় নিয়ে সবাইকে সতর্ক করলেন পুলিশ আধিকারিকরা। পুলিশের এই উদ্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছে হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েন। তাঁদের পক্ষে পুলিশের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক ধীরাজ অধিকারী, কোষাধ্যক্ষ অজয় সরকাররা।

- Advertisement -

রুকিয়া বিবি জানান, কোনওরকমে সংসার চলে। লকডাউনের কড়াকড়িতে রোজগার বন্ধ। টানাটানি করে খাওয়াটুকু চলছে। পুলিশের সাহায্য পেয়ে খুব সুবিধে হল।উজাল পার্শ্ববর্তী এলাকায় থাকেন রেখা শীল। একার সংসার। তাঁর কথায়, এখন খেয়েপরে দিন কাটানোই সমস্যা। কী করে দিন চলবে ভেবে কূল পাচ্ছেন না। পুলিশের সাহায্য পেয়ে তিনিও খুশি। তাই আধিকারিকদের ধন্যবাদ জানান।

হিলি থানার আইসি গণেশ শর্মা বলেন, হিলি থানা এলাকার দুঃস্থ মানুষের সাহায্যের জন্য এই ক্ষুদ্র প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। প্রথম দিন ১০০টি দুঃস্থ পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত বন্দি, যাঁরা প্যারোলে বাড়ি এসেছেন, তাঁদেরও খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেককে ইয়াস ঘূর্ণিঝড় নিয়ে সতর্ক করা হয়। সবরকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। হিলি থানার পুলিশ সবসময় মানুষের পাশে রয়েছে।

ডিএসপি হেড কোয়ার্টার সোমনাথ ঝা বলেন, জেলা পুলিশের উদ্যোগে ও হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় দুঃস্থ মানুষের মধ্যে আজ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। হিলিতে দুঃস্থ মানুষকে চিহ্নিত করে তাঁদের হাতে মাস্ক, স্যানিটাইজার, চাল, আলু, তেল, লবণ, সয়াবিনের ব্যাগ ভর্তি প্যাকেজ তুলে দেওয়া হয়। কোভিড ও ঘূর্ণিঝড় নিয়ে মানুষজনকে সতর্ক করা হয়।