কুয়াশার আড়ালে উড়ে আসে জাল নোটের তোড়া

765

শুভদীপ ব্যানার্জি, মালদা : কুয়াশার আড়ালে ওঁত পেতে থাকে ওরা। একটু সুযোগ পেলেই প্যাকেটবন্দি নোটের তোড়া কাঁটাতারের ওপর দিয়ে উড়ে আসবে এপারে। বিস্তৃত সীমান্তে নজরদারির ফাঁক গলে এপারে থাকা লিংকম্যানরা সেই প্যাকেট লুফে মুহূর্তে মিলিয়ে যাবে। তারপর রিলে পদ্ধতিতে তা এ হাত সে হাত হয়ে বাজারের ভিড়ে মিশে যাবে। দেশের অর্থনীতির ভিত বিগড়ে দিতে এভাবেই জাল নোটের রিলে কারবার চলে মালদার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ঠিক যেন উড়তা পঞ্জাবের দৃশ্য বাস্তবের আঙিনায় নেমে এসেছে মালদা সীমান্তে।

দু-হাজারি গোলাপি নোট তো বটেই, পাঁচশোর সবুজ নোটেরও নকল সহজে ধরা মুশকিল। তার ওপর বাজারে একশোর জাল নোটও ঘুরছে। ভারতের বাজারে এইসব জাল নোট ছড়িয়ে দিতে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ছক কষে চলেছে পাচারের কিং পিনরা। আর তাদের মাথায় ছাতা ধরে রয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা। ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা(এনআইএ) অন্তত এমনটাই মনে করছে। মালদার ওপারে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জেই জাল নোট ছাপানোর কারখানা চালাচ্ছে ভারত বিরোধী গোষ্ঠীরা। মাঝেমধ্যে বাংলাদেশি পুলিশের অভিযানে সে সব তথ্য কিছুটা সামনে আসে। কিন্তু রাঘববোয়ালরা অধরাই থেকে যায়। চলতি বছরের বেশ কয়েকবার মালদায় জাল নোটের প্যাকেট ধরা পড়েছে। এই সব ঘটনাই প্রমাণ করে সীমান্ত পেরিয়ে মাঝেমধ্যেই জাল নোট ঢোকানোর মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাচারকারীরা। দেশের মধ্যেই টাকার লোভে কেউ কেউ পাচারকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অর্থনীতিতে ঘুণ ধরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

- Advertisement -

মালদা মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক জয়ন্ত কুণ্ডু মনে করেন, বাজারে এখন শুধু দু-হাজারি নোটই নয়, পাঁচশো ও একশো টাকার জাল নোট বেশি দেখা যাচ্ছে। জাল নোটের সঙ্গে আসলের ফারাক সাধারণ মানুষ চট করে ধরতে শেখেননি। ফলে অনেক সময়ে তাঁরা বুঝতে না পেরে জাল নোট নিয়ে নিচ্ছেন। পরে ব্যাংকে গিয়ে তা ধরা পড়ছে। তাই এবিষয়ে ধারাবাহিকভাবে সচেতনতা বাড়ানো দরকার। মালদা জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জাল নোটের কারবারিদের ধরতে বদ্ধপরিকর। তাঁর সোজা কথা, সীমান্তে বিএসএফ তাদের কাজ করছে। আমরাও সতর্ক আছি। জাল নোটের কারবারি বা লিংকম্যানদের আমরা টার্গেটে রেখেছি। বেশ কয়েজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। আমরা জাল নোট পাচারের চক্রকে রুখতে অনেকটাই এগিয়েছি।