পাঞ্জিপাড়ায় লাইন হোটেল ও ধাবার আড়ালে চলছে স্পিরিট পাচার

167

অরুণ ঝা, পাঞ্জিপাড়া : জান হ্যায় তো জাহান হ্যায়। নিকল লো নেহি তো গুম হো যাওগে। অর্থাত্, জীবন থাকলে সব আছে। কেটে পড়ুন, না হলে খোঁজ পাওয়া যাবে না। গোয়ালপোখর থানার পাঞ্জিপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইকরচালাতে আন্তঃরাজ্য জাল লিকার মাফিয়াচক্রের খবর করতে গিয়ে এই হুমকি উড়ে এল। অভিযোগ, ইসলামপুর জেলা পুলিশের একাংশের ছত্রছায়াতেই এই কালা কারবার চলছে। এই এলাকায় জাল মদ তৈরির জন্য শুধু কাঁচা স্পিরিট পাচার নয়, ট্যাংকার থেকে পেট্রোল, লরি থেকে সর্ষের তেলের টিন, লোহার রড সবই পাচার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে মূলত কাঁচা স্পিরিটের কারবার রমরমিয়ে চলছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই মাফিয়াচক্রের জন্য পুলিশের একাংশের মদতকে দায়ী করেছে। প্রতিক্রিয়া জানতে ইসলামপুরের পুলিশ সুপার শচীন মক্কর এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কার্তিকচন্দ্র মণ্ডলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।

গভীর রাতে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে ইকরচালা পৌঁছাতেই নিস্তব্ধতার ছবি চোখে পড়বে। সংশ্লিষ্ট কিছু লাইন হোটেল ও ধাবার আড়ালে কালা কারবার চলে বলে অভিযোগ। বহিরাগতদের ওপর নজরদারি চালানোর জন্য বাহিনী তৈরি থাকে। বেচাল দেখলেই সরাসরি গুলি। ইকরচালা কালীবাড়ির সামনে পৌঁছে স্পিরিট পাচারের ছবি তুলতে ক্যামেরা বের করতেই অন্ধকার থেকে আচমকা দুজন সিভিক ভলান্টিয়ার কাছে এসে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্যাংকার সরাতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। জানা গিয়েছে, মূলত ভোর ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কাঁচা স্পিরিট ট্যাংকার থেকে নামানোর কাজ শুরু হয় বেশ কিছু লাইন হোটেল ও ধাবায়। ইকরচালা থেকেই কাঁচা স্পিরিট জাল মদ তৈরির জন্য দার্জিলিং জেলার বিধাননগর, ইসলামপুর মহকুমার ডালখোলা এবং পাঞ্জিপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হয়। এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত এক পান্ডাকে ছবি করার কথা বলতেই তাঁর ঠান্ডা গলার হুমকি, জান হ্যায় তো জাহান হ্যায়। নিকল লো, নেহি তো গুম হো যাওগে। তাঁর কথায়, গেমপ্ল্যান অনেক ওপর থেকে সেট হয়। অনেকেই চেষ্টা করেছে এই কারবার বন্ধ করতে। কিন্তু পারেনি।

- Advertisement -

এই মাফিয়াচক্রকে ঘিরে আর্মস থেকে শুরু করে ড্রাগস এবং গোরু পাচারের কারবারও রমরমা হয়েছে। বিহারে মদ নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে বিহারের অপরাধজগতের মাস্টারমাইন্ডদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পাঞ্জিপাড়াকে কেন্দ্র করে ডালখোলা থেকে বিধাননগর পর্যন্ত জাল মদের কারবারে কোটি কোটি টাকা উড়ছে বলে অভিযোগ। তৃণমূলের পাঞ্জিপাড়া অঞ্চল সভাপতি ফিরোজ খান বলেন, ইকরচালার এই কালা কারবার এলাকার যুব প্রজন্মকে অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শিক্ষার চাইতে কাঁচা স্পিরিট ও অন্যান্য অপরাধে অনেকেই টাকার লোভে জড়িয়ে পড়ছেন। আসলে পুলিশের মদত ছাড়া কোটি কোটি টাকার এই র‌্যাকেট চলতে পারে না। পুলিশের একাংশের মদতেই এই কারবার চলছে। এই কারবার বন্ধে তিনি সরকারের কাছে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানান।