নদীপথে গোরু পাচারে সক্রিয় দুষ্কৃতীরা

সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট : কাঁটাতারে ঘেরা দুদেশের সীমান্ত। চলছে জওয়ানদের নজরদারি। রয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। তবু কুছ পরওয়া নেহি। দক্ষিণ দিনাজপুরে চলছে রমরমিয়ে গোরু পাচার। জেলার উন্মুক্ত ভরা নদীতে কলাগাছ বেঁধে ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে গোরু। ভাসতে ভাসতেই এক দেশ থেকে আর এক দেশে পৌঁছে ছে চ্ছে গোরু। তবে বৃহস্পতিবার বালুরঘাটের আত্রেয়ী নদীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিএসএফ জওয়ানরা ৩৩টি গোরু উদ্ধার করতেই, পাচারকারীদের এই কৌশল সামনে এসেছে। এদিন উদ্ধার করা গোরুগুলি বালুরঘাট থানার হাতে তুলে দিয়েছে বিএসএফের ১২২ নম্বর ব্যাটেলিয়ন।

প্রসঙ্গত, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ২৫২ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। তারমধ্যে প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। আবার জলপথগুলিও উন্মুক্ত। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া নিরাপত্তার জেরে স্থল সীমান্ত দিয়ে গোরু পাচারের ঝুঁকি নিতে কিছুটা সমস্যায় রয়েছে পাচারকারীরা। তাই ঝামেলা এড়াতে জলপথ দিয়ে নয়া কায়দায় পাচার কাজ শুরু হয়েছে। বর্ষার পর থেকেই জেলার নদীগুলিতে জল বেড়েছে। রয়েছে স্রোত। এই স্রোতকে কাজে লাগিয়ে নদীপথে গোরু পাচারের ছক পাচারকারীদের। চোরাকারবারিদের এই নতুন কৌশল দেখে অবাক হতে হয়। তপন, বালুরঘাট, হিলি সর্বত্র কার্যত এমনভাবেই গোরু পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছে পাচারকারীরা। নদীপথে গোরু পাচারের জন্য প্রস্তুতিতেও ফাঁক নেই। কলাগাছের ভেলায় গোরুদের বাঁধা হয়। হাত, মুখ, পা বেঁধে গোরুগুলি ভাসিয়ে দেওয়া হয় নদীতে। ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা এড়াতেই কলাগাছ ব্যবহার করা হয়। গোরু পাচারের এই কৌশল জানতে পেরেই সতর্ক হয়ে উঠেছে বিএসএফ। নদীপথে এভাবে গোরু পাচারের ঘটনা সামনে আসার পরই সক্রিয় হয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। পাচার রুখতে অভিযান শুরু হয়েছে। সাফল্যও মিলতে শুরু করেছে।

- Advertisement -

এদিন ভোরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে প্রচুর গোরু উদ্ধার করেছে বিএসএফের ১২২ নম্বর ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্ত থেকে খানিকটা দূরে পাচারকারীদের তাড়াও করা হয়। কিন্তু কাউকে পাকড়াও করা যায়নি। তবে নৌকার সাহায্যে নদী থেকে গোরু, বাছুর মিলিয়ে প্রায় ৩৩টি উদ্ধার করা হয়েছে। আগামীতেও এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে বলে জানিয়েছে বিএসএফ। এদিন উদ্ধার করা গোরুগুলি বালুরঘাট থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ সেগুলি কাস্টমসকে দেবে।