করোনা পরিস্থিতিতেও সীমান্তে চোরাচালান বাড়ায় উদ্বেগ

615

গৌতম সরকার, মেখলিগঞ্জ: করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও মেখলিগঞ্জ ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাচালান বাড়ছে। পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিনে এই সীমান্তের কুচলিবাড়ি এবং মেখলিগঞ্জ এই দুটি থানা এলাকা থেকে চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। রয়েছেন একাধিক বাংলাদেশের নাগরিকও।

তাদের একাংশের বিরুদ্ধে সীমান্ত টপকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢোকার অভিযোগও রয়েছে। শুধু চোরাচালানই নয়, গোরু চুরি সহ গৃহস্থের বাড়ি থেকে জিনিসপত্র চুরির ঘটনাও ঘটেছে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রশাসনের একাংশও। যদিও তারা জানিয়েছেন, অপরাধমূলক কাজকর্ম রুখতে পুলিশের তরফে গোটা ব্লকজুড়েই কড়া নজরদারি ব্যবস্থা রয়েছে।যার জেরে সাফল্যও মিলছে।

- Advertisement -

করোনা পরিস্থিতিতে যখন অনেকেই নিজেদের সতর্ক ও গুটিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের একটা অংশ ব্যস্ত। সেই সুযোগে অপরাধমূলক কাজকর্ম করার চেষ্টা করছেন দুষ্ট চক্রের একটি অংশ। যা সীমান্তবাসীদের অনেককেই ভাবিয়ে তুলেছে। এর মধ্যে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে গোরু-মহিষ পাচারের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।

মেখলিগঞ্জ ও কুচলিবাড়ি থানার পুলিশ সূত্রেই জানা গিয়েছে, অবৈধ কার্যকলাপ আটকাতে তাদের তরফে রাতেও টহলদারি রয়েছে। যার কারণে অবৈধভাবে ইলেকট্রনিক মোটর ও প্লাস্টিকের পাখা নিয়ে যাবার অভিযোগে সম্প্রতি দুই ভারতীয়কে গ্রেপ্তার করে কুচলিবাড়ি থানার পুলিশ। সীমান্তের এই এলাকা থেকে কাফসিরাফ উদ্ধার করা হয়। ধরা পড়ে চার বাংলাদেশের নাগরিক।

মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ ৮টি গোরুসহ একটি পিকআপ ভ্যান আটক করে দিন কয়েক আগে। এই ঘটনায় দুইজন গ্রেপ্তারও হয়। পাশাপাশি নিজতরফ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭৫ নিজতরফ এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ১৪টি মহিষ নিয়ে যাবার সময় গ্রামবাসীরা সেগুলি আটক করে মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেন। মহিষগুলি সীমান্ত দিয়ে চোরাপথে বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টার উদ্দেশ্যেই নিয়ে আসা হয়েছিল বলে অনেকের সন্দেহ।

এই এলাকা থেকে গত সপ্তাহে এক গৃহস্থের বাড়ি থেকে হালের দুটি বলদ চুরি যায়। এবিষয়ে মেখলিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগও জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোটবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ধনির বাড়ি এলাকাতেও এক গৃহস্থের বাড়িতে চুরির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। অর্থাৎ করোনা পরিস্থিতিতে যে সীমান্ত এলাকায় চুরি, চোরাচালান অব্যাহত রয়েছে সেগুলি এইসব বিভিন্ন ঘটনাতেই পরিস্কার হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

স্থানীয়দের একাংশ জানান, মেখলিগঞ্জের বিভিন্ন উন্মুক্ত সীমান্তগুলিকেও পাচারকারীরা পাচারের করিডোর হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন। নদী সংলগ্ন সীমান্ত দিয়েও পাচারের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। কারণ এইসব অংশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি এখনও। এবিষয়ে বিএসএফের উত্তরবঙ্গের এক আধিকারিক অবশ্য জানিয়েছেন, সীমান্তে সর্বদাই তাদের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি রয়েছে। উন্মুক্ত সীমান্তগুলির উপর বিশেষভাবে নজর রাখা হচ্ছে। এবিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিও আকর্ষণ করা হয়েছে।