অভাবের সীমান্তে ভরসা চোরাচালান

80

হেমতাবাদ: মাথা গোঁজার ঠাঁই রয়েছে নামেই। রোজগার বলতে কিছুই নেই। মেলে না সরকারি সাহায্যও। চরম দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে দিনপাত হয় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া চৈনগর গ্রামের বাসিন্দাদের। অভাবের সংসারে হাল ধরতে কেউ পারি জমিয়েছে ভিন রাজ্যে তো কেউ আবার বেছে নিয়েছেন ভিক্ষাবৃত্তি। অনেকে আবার বেছে নিয়েছেন অসাধু উপায়। হাত মিলিয়েছেন চোরা কারবারীদের সঙ্গে। চলছে গোরু থেকে শুরু করে মাদক পাচার।

প্রায় ৬০ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে হেমতাবাদ সীমান্ত এলাকা। জন সংখ্যাও নাহাত কম নয়। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের ওপর ভরসা হারিয়ে অনেকেই পারি জমিয়েছেন ভিন রাজ্যে। যারা পারি জমাতে পারেননি চরম দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাদের। অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় রাতের অন্ধকার নেমে আসতেই শুরু হয় পাচার কাজ। কখনও গোরু পাচার হচ্ছে তো আবার কখনও সীমান্ত পেড়িয়ে চলে যাচ্ছে মাদক সহ নেশার সামগ্রী। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এই পাচার প্রক্রিয়া রুখতে বিএসএফের তরফে সেভাবে নজরদারি নেই।

- Advertisement -

সীমান্ত এলাকার এক বাসিন্দা হাফিজ আলম জানান, লকডাউনে ভিন রাজ্য থেকে ফিরে আসার পর থেকে এভাবেই দিনযাপন চলছে। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে তৈরি কাঁটাতারের বেড়া যেন আমাদের বন্দি করে রেখেছে। অথচ পেট ভরানোর ব্যবস্থা নেই। লকডাউনে কয়েকদিন বিনে পয়সায় খাওয়ার চাল-আলু-ডাল পেয়েছিলাম। কিন্তু দু মাস থেকে কিছুই মেলে না। এখন ভিক্ষা করে দিন কাটছে।

প্রতাপপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য বলেন, ‘সীমান্ত গ্রামের অধিকাংশ যুবকরা ১০০ দিনের কাজ সহ সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে বঞ্চিত সেই কারণেই অনেকে গোরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। হেমতাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় কুড়ি হাজার যুবক ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজে কর্মরত।

ভাতুন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ইউসুফ আলী বলেন, ‘১০০ দিনের কাজ সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে গ্রামবাসীদের। সেই টাকায় তাদের পোষাবে না বলেই তারা ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজে গিয়েছেন। তবে গরু পাচারের ব্যাপারে উনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।’