নজরদারি নেই, অবাধে কাঠ পাচার চিলাপাতায়

228

অভিজিৎ ঘোষ, সোনাপুর : শুরুটা হয়েছিল অভাবের তাড়না থেকে। জ্বালানির জন্য খড়ি কুড়োতে বনে যেতেন পুরুষ ও মহিলারা।খড়ি কুড়োনোর নামে গাছ কেটেও হাপিস হচ্ছে। তারপর বাইরে থেকে চলছে পাচার। মাফিয়াদের এই চক্রে ক্রমেই জড়িয়ে পড়ছেন স্থানীয়দের একাংশ। এর জেরে দিন-দিন ধ্বংস হচ্ছে চিলাপাতা। কাঠ পাচারের জন্য প্রথমে বনের গাছ কেটে বনের বাইরে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হচ্ছে। এরপর সেখান থেকে কাঠ পাচার করা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। এই বিষয়ে বন দপ্তরের পর্যাপ্ত নজরদারি নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। যদিও বন দপ্তর নজরদারির অভাবের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বন দপ্তর।

নজরদারির অভাবে কিছু লোক ঢুকছে গভীর জঙ্গলে। সেখান থেকে গাছ কেটে নিয়ে আসছে তারা। পরবর্তীতে সেই কাঠ বিভিন্নভাবে বিক্রি হচ্ছে বাইরে। আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ এই চিলাপাতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে পর্যটন ক্ষেত্র। জঙ্গলে থাকা বিভিন্ন প্রাণীর জন্য এই গভীর অরণ্য নিরাপদ আশ্রয়। এই পরিস্থিতিতে চিলাপাতা জঙ্গলে প্রায়ই পুরুষ ও মহিলারাও দা, কুড়ুল নিয়ে ঢুকে পড়ছে। শুকনো খড়ি কুড়ানোর কথা বলে জঙ্গলে গেলেও তাঁরা জঙ্গলে গিয়ে গাছ কেটে নিয়ে আসছে। কোনও বাধা ছাড়াই এভাবে গাছ কাটতে থাকলে পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক হবে বলে আশঙ্কিত অনেকে।

- Advertisement -

তবে অসাধুচক্র জড়িত থাকলেও, প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারাও রয়েছেন। যাঁদের উপার্জনের সঠিক কোনও পথ নেই। এমন অনেকে জঙ্গলের হিংস্র প্রাণীদের ভয় না পেয়ে জীবনের পরোয়া না করে এই চক্রে জড়িয়ে পড়েছেন। স্থানীয় বন সুরক্ষা কমিটির সম্পাদক রবি রাভা বলেন, কিছু লোক এই অবৈধ কাজ করে। সবার নজরকে ফাঁকি দিয়ে এই কাজ করে। জলদাপাড়া ওয়াইল্ডলাইফ ডিভিশনের ডিএফও কুমার বিমল বলেন, শুকনো খড়ি আনার জন্য আমরা স্থানীয়দের জঙ্গলে যেতে দেই। তবে খড়ি আনার নাম করে কেউ যদি জঙ্গলে ঢুকে গোটা গাছ কেটে নিয়ে আসে, তবে সেটা বেআইনি। এরকম কেউ করলে আমরা ব্যবস্থা নেব।