করোনায় সংক্রমিত হলেন সাপে কাটা রোগী

281

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: সাপে কেটে ভর্তি হওয়া এক মহিলা করোনা সংক্রমিত হলেন। মঙ্গলবার দুপুরে ভিআরডিএল ল্যাব থেকে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসতেই হুলুস্থূলু বেঁধে যায় সিসিইউ বিভাগে। দপ্তরের স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক, নার্স, কর্তব্যরত চিকিৎসক, সহকারি অধ্যক্ষের ঘরে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অবিলম্বে সিসিইউ বিভাগ বন্ধ করতে হবে বলে দাবি তাদের। যদিও সহকারি অধ্যক্ষ আন্দোলনকারীদের সাফ জানিয়ে দেন সিসিইউ বিভাগ বন্ধ করা সম্ভব নয়। যারা কাজে যোগ দেবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ সাপে কাটা করোনা আক্রান্ত ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জের কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার বাড়ি হেমতাবাদ থানার বিষ্ণুপুর এলাকায়। মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসের ২৬ তারিখ সাপে কেটে গুরুতর অবস্থায় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিসিইউ বিভাগে পাঠায়। রবিবার লালার নমুনা নেওয়া হলে মঙ্গলবার দুপুরে রিপোর্ট পজিটিভ আসতেই হুলুস্থূলু বেঁধে যায় সিসিইউ বিভাগে।

- Advertisement -

এদিকে, রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সিসিইউ বিভাগের এক নার্স করোনা সংক্রামিত। এছাড়া রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের রেডিওলজিস্ট করোনা আক্রান্ত হয়ে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদিকে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিকের গাড়ি চালক করোনা পজিটিভ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। করোনা আক্রান্ত খোদ কোভিড হাসপাতলের ফার্মাসিস্ট। গতকাল রাত দশটা নাগাদ করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এছাড়া ৯ জন নার্স করোনা আক্রান্ত হয়ে গতকাল রাত বারোটা নাগাদ রায়গঞ্জের কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, সোমবার রাতে রায়গঞ্জ মেডিকেল ভিআরডিএল ল্যাবে দশজনের পজিটিভ রিপোর্ট মিলেছে। তাদের মধ্যে একজন রায়গঞ্জের মিক্কিমেঘা কোভিড হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট এবং ৯ জন কোভিড হাসপাতালের কর্মরত নার্স। চলতি মাসের ২৪ তারিখ কোভিড হাসপাতালের কর্মরত নার্স ও ফার্মাসিস্ট লালার নমুনা দেওয়ার জন্য ফিভার ক্লিনিকে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের লালার নমুনা সংগ্রহ করে রায়গঞ্জের ভিআরডিএল ল্যাবে পাঠান। গতকাল রাত দশটা নাগাদ ফার্মাসিস্ট সহ দশজন নার্সের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসতেই রীতিমতো হুলুস্থূলু বেঁধে যায়।

রায়গঞ্জের একটি বেসরকারি হোটেল থেকে নয়জন নার্স ও একজন ফার্মাসিস্ট কে উদ্ধার করে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করে সফত্বরে কর্মীরা। কোভিড হাসপাতালের সুপারেনটেনডেন্ট দিলীপ কুমার গুপ্তা বলেন, ‘গত রাতে আমরা রিপোর্ট পেয়েছি। প্রত্যেককে ভর্তি করা হয়েছে।’ জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘আক্রান্তদের কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আতঙ্কের কিছু নেই। সবাই সুস্থ হয়ে উঠবে।’ কোভিড হাসপাতালে সুপারিনটেনডেন্ট দিলীপ কুমার গুপ্তা বলেন, ‘সাপে কাটা এক মহিলা সিসিইউ বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিল। করোনা আক্রান্ত হয়ে কিছুক্ষণ আগে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।’