হাসপাতালে সাপের আতঙ্ক

367

সৌরভ রায়, ফাঁসিদেওয়া: করোনা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মাঝেই হাসপাতালে অন্য আতঙ্ক। ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করাতে এসে সাপের আতঙ্ক কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রোগীদের। মাঝে মধ্যেই ল্যাব থেকে সাপ বেরিয়ে আসছে।

শুধু কোভিড পরীক্ষার ল্যাব নয়, হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের ভিতর সাপের উপদ্রব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে এখন রীতিমতো উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা জানান, ঝোপঝাড়ের আড়াল থেকে সাপ বেরিয়ে আসছে। ফলে, হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীরা ভয় পাচ্ছেন। আর তা নিয়ে মাঝেমাঝেই হাসপাতাল ক্যাম্পাস জুড়ে হইচই পড়ে যাচ্ছে। মহিলাদের পাশাপাশি, শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে বনদপ্তরকে চিঠি লিখেছে। সাপ ধরে বাইরে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রোগীর পরিজনরা। ফাঁসিদেওয়ার ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক (বিএমওএইচ) অরুণাভ দাস জানিয়েছেন, সাপের উপদ্রব হঠাৎ বেড়ে গিয়েছে। এইবিষয়ে ঘোষপুকুর বনদপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। হাসপাতাল ক্যাম্পাস থেকে সাপ ধরে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

- Advertisement -

একদিকে করোনা আতঙ্ক। তার ওপর সাপের আতঙ্ক। ঘটনায় নাজেহাল চিকিৎসা করাতে আসা রোগীরা। এমনকি র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করার কক্ষের বাইরে সাপ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন ল্যাব টেকনিশিয়ানও। কিছুদিন আগেই হাসপাতালের ২ নম্বর গেটের সামনে থেকে এক স্থানীয় সর্পপ্রেমী প্রায় ৫ ফুট লম্বা গোখরো উদ্ধার করেন। এরপর ফের হাসপাতালের কয়েকটি বিভাগে বিষধর সাপ ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন স্বাস্থ্য কর্মীরা। হাসপাতালের ল্যাবের সামনেও সাপ বেরিয়ে এসেছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বনদপ্তরে খবর দিলে বনকর্মীরা এসে তল্লাশি চালান। তবে, সেই সাপ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় এবং রোগীর পরিজনরা মনে করছেন হাসপাতাল ক্যাম্পাসে প্রচুর সাপ রয়েছে। যদিও, এখনও পর্যন্ত সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে, অসাবধান হয়ে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করলে, সাপের কামড় থেকে রেহাই মিলবে না বলে মত স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশের। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী থেকে শুরু করে হাসপাতালের কর্মী সকলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগির পরিজনদের মধ্যে গোলাম শেখ জানিয়েছেন, হাসপাতালের চারপাশে জঙ্গল থেকে বিষধর সাপ বেরিয়ে আসছে। পুলক বর্মন বলেন, ‘হাসপাতালে ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসা করাতে এসেছিলাম। হঠাৎই একটি প্রায় ৪ ফুট লম্বা গোখরো বেরিয়ে এসেছে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম।’ হাসপাতালে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করাতে আসা এক রোগী জানান, সস্ত্রীক করোনা পরীক্ষা করাতে এসেছিলাম। সাপ বেরিয়ে আসার পরই ভয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এসেছি। রোগী এবং স্বাস্থ্য কর্মীরা সাপগুলিকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থার জন্য দাবি করেছেন। পাশাপাশি, হাসপাতালের জঙ্গল পরিষ্কারের দাবি জোরালো হয়েছে। ফাঁসিদেওয়ার বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার জানিয়েছেন, অপরিচ্ছন্ন থাকলে অনেক সময় এমন ঘটনা হতে পারে। তবে, বনদপ্তরকে সাপ বেরোনোর ঘটনাটি জানানো হয়েছে। তাঁরা ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, হাসপাতাল পরিষ্কার রাখার কথা বিএমওএইচ-কে জানানো হয়েছে। সমস্যা শীঘ্রই মিটে যাবে বলে আশাবাদী তিনি।