মাতব্বরদের এড়িয়ে বিয়ে করলেই জরিমানা, খুনিয়ায় তালিবানি শাসন

378

চোপড়া : এও যেন এক তালিবানি ফতোয়া! বিয়ে করতে গেলে চাই গ্রামের মাতব্বরদের অনুমতি। তাঁদের এড়িয়ে বিয়ে করলেই একঘরে। তবে রেহাই মেলারও পন্থা রয়েছে। জরিমানা দিলেই সাত খুন মাফ। এমনই গ্রাম্য আইন চলছে চোপড়া ব্লকের খুনিয়া গ্রামে। চোপড়ার চুটিয়াখোর গ্রাম পঞ্চায়েতের খুনিয়া গ্রামের আট থেকে আশি- প্রত্যেকেরই এই অনুশাসনের কথা জানা। একাধিকবার গ্রামে সালিশি বৈঠক করে জরিমানার টাকা আদায় করা হয়েছে। তবে জরিমানার টাকা অন্য কাজে নয়, গ্রামের সর্বজনীন মন্দির উন্নয়নের কাজে লাগানো হয় বলে দাবি। অবশ্য বিষযটি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন চোপড়ার বিডিও।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই নিযমের বিরুদ্ধে এবার সরব হয়েেন গ্রামেরই এক বাসিন্দা বিকাশ নাথ। গ্রামের মাতব্বরদের অনুমতি না নিয়ে বিয়ে করেছেন তিনি। ডাকা হয়েছিল সালিশি সভায়। যাননি বিকাশবাবু। দেননি জরিমানার টাকাও। বিকাশবাবু বলেন, ৪৫ বছর বয়সে নিজের পছন্দের পাত্রীকে মন্দিরে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছি। তার পর থেকে গ্রামের অনেকেই আমাদের পরিবারকে অন্য নজরে দেখা শুরু করেছে। কাউকে কেন জানানো হয়নি, এই অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েে। কিন্তু তাঁর সাফ কথা, কোন অপরাধে আমি জরিমানা দেব? এধরনের নিয়ম চলতে পারে না। প্রয়োজনে বিষযটি পুলিশ প্রশাসনের নজরে আনা হবে বলে জানান বিকাশবাবু।

- Advertisement -

এ প্রসঙ্গে খুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা তথা মন্দির কমিটির সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় দেবনাথ বলেন, পরিবারের অমতে বিয়ে কিংবা অসামাজিক কাজকর্মের ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে একটা অনুশাসন চালু রয়েছে। তবে আস্তে আস্তে সেটা উঠে যেতে বসেছে। তাঁর দাবি, এই নিয়ম চালু হওয়ার পর অসামাজিক ঘটনা কমই হয়। জরিমানার টাকা মন্দিরের কাজে লাগানো হয়। তবে তিনি একঘরে করার বিষযটি অস্বীকার করেছেন। বিকাশ নাথের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিকাশবাবু বৈঠকে আসেননি। এমনকি টাকাও দেননি। এলাকার বাসিন্দা তথা চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মহম্মদ আজারুদ্দিন এই ধরনের শাসনকে সমর্থন না করলেও হস্তক্ষেপ করতে নারাজ। তিনি বলেন, শুনেছি খুনিয়া গ্রামে কিছু নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে। এটা একেবারে গ্রামবাসীদের নিজস্ব ব্যাপার। চোপড়ার বিডিও জুনেইদ আহমেদ বলেন, বিষয়টি জানা নেই। এই ধরনের কাজ এ রাজ্যে চলে না। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।