বট গাছের ব্যাংক তৈরি করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেদন

458

জলপাইগুড়ি : বট গাছ চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেদন করেছেন এক বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত সফটওয্যার ইঞ্জিনিযার। পরিবেশ বাঁচাতে সবচেয়ে বেশি করে অক্সিজেন সরবরাহ করে বট গাছ। বট গাছের চারা সংগ্রহ করে বটের ব্যাংক তৈরি করতে উদ্যোগী হয়েছেন কুন্তলবাবু। তাই কারও বাড়ির পাকা দেয়ালে বট গাছ বের হলে সেই গাছ কেটে না ফেলে জলপাইগুড়ির উত্তর বামনপাড়ায় স্পেরো হাউসের মালিক কুন্তল ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। কুন্তলবাবু সেই বট গাছ নিজের বাড়ির ছাদে যত্ন করে ১ বছরে আড়াই ফুট বড়ো করে প্রাকৃতিক পরিবেশে পুঁতে দিয়ে আসতে চান।

কুন্তলবাবু নিজের বাড়ির ছাদে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ পরিচর্যা করে বড়ো করে তুলেছেন। চড়ুইপাখির বাসা তৈরি করে চড়ুই সংরক্ষণ করছেন। তাঁকে সঙ্গ দিচ্ছেন তাঁর স্ত্রী পিয়ালি দেবনাথ ঘোষ। কুন্তলবাবু নিজের বাড়িতে প্রথম বট গাছ বড়ো করে রাজগঞ্জে স্ত্রীর স্কুলে দিয়েছেন।

- Advertisement -

বট অক্সিজেন বেশি দেয় তেমনই প্রচুর পাখি বাসা তৈরি করে ওই গাছে। বর্তমান প্রাকৃতিক পরিবর্তনের সময়ে মানুষের কাছ থেকে বটের চারা নিয়ে নিজের বাড়ির ছাদে বট গাছের ব্যাংক তৈরি করতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেদন করেছেন কুন্তলবাবু। তাঁর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সকলে। জলপাইগুড়ি আনন্দ চন্দ্র কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সুমন সেন বলেন, এটা ঠিক নয় যে প্রকৃতিতে বড়ো গাছ বলে একমাত্র বট গাছই সবচেয়ে বেশি অক্সিজেন দেয়। তবে উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি। জলপাইগুড়ি সাযে্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সম্পাদক রাজা রাউত বলেন, বট গাছের মাথার দিকের ক্ষেত্রফল বেশি। ব্যাসার্ধ অনেকটা জায়গাজুড়ে বলে ছায়ার সঙ্গে অক্সিজেন অনেক দেয়। এই ধরনের বিভিন্ন গাছ যেমন অ্যালোভেরাও অক্সিজেন দেয়। জলপাইগুড়ি  বনবিভাগের বনাধিকারিক মৃদুল কুমার বলেন, বট গাছের উপরের দিকের অংশ অনেক জায়গাজুড়ে থাকে বলে পাখিদের থাকার জায়গাও অনেক হয়। তবে যে গাছের পাতা বা তার পরিসর বেশি হয় তারাই বেশি করে অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকে। পরিবেশকর্মী প্রবীর রায় চৌধুরির কথায়, বট কেবল জাতীয় উদ্ভিদ নয়, বাংলার আদিমতম বৃক্ষ। শতসহস্র বছরের ঐতিহ্য বহন করে বট গাছ। আমাদের বাঁচতে হলে, পরিবেশকে সুস্থ-সবল রাখতে হলে প্রচুর পরিমাণে বট গাছ লাগাতে হবে। যে উদ্যোগ নেওযা হয়েছে তাকে স্বাগত জানাচ্ছি।

বৃক্ষরোপণের অনুষ্ঠানে সাধারণত ব্রাত্যই থাকে বট গাছ। পরিবেশপ্রেমী সংস্থা ন্যাস গ্রুপের সম্পাদক অরূপ গুহ বলেন, আগেকার দিনে কেউ অসুস্থ হলে তাকে বট গাছের নীচে রাখা হত যাতে সে বেশি অক্সিজেন পায়। যেহেতু এই গাছ বেশি জায়গা নেয় তাই ফাঁকা জায়গা দেখে এই গাছ লাগানো উচিত। পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদবিদ্যার কোঅর্ডিনেটর তথা অধ্যাপক রামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলেন, বট গাছ পরিবেশ থেকে অনেক বেশি কার্বন ডাইঅক্সাইড নিয়ে অন্য গাছের তুলনায় বেশি অক্সিজেন পরিবেশে ফেরত দেয়। অসংখ্য প্রাণীকে আশ্রয় দেয় এই গাছ। তাই পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বট গাছ বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি। এদিকে, সোশ্যাল মিডিযায় প্রচার করেও এখনও একটিও বট গাছের চারা না পেয়ে কার্যত হতাশ হয়ে পড়েছেন কুন্তলবাবু। তাঁর বক্তব্য, অন্য গাছ সমপরিমাণ অক্সিজেন দিতে পারে। কিন্তু বটের মতো আয়ু নেই। তাই বট গাছের ব্যাংক করে এগিয়ে যেতে চাই।