ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে অ্যাপে সবজি ও ফল বেচছেন রেশমি

323

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি: সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার রেশমি আগরওয়াল পুনেতে চাকরি করতেন। লকডাউনের সময় চাকরি ছেড়ে চলে আসেন শিলিগুড়িতে। এখন এই শহরেই অ্যাপ বানিয়ে অনলাইনে অর্ডার নিয়ে ফল ও সবজির হোম ডেলিভারির ব্যবসা করছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁর এই ব্যবসা ইতিমধ্যেই যথেষ্ট পরিচিতি পেয়েছে। প্রধানত জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত ফল, সবজিকে কেন্দ্র করেই এই হোম ডেলিভারির ব্যবসা শহরে অনেককেই নতুন দিশা দেখাচ্ছে। জৈব পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনকারী রণদীপদের মতো কৃষকরাও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সরাসরি ক্রেতাদের ঘরে পৌঁছে যাওয়ার রাস্তা খুঁজে পাচ্ছেন। এই প্রক্রিয়ায় বাড়ছে কর্মসংস্থানও।

লকডাউন উত্তরকালে গৃহস্থ বাড়ির বাজার করার ধরন পালটেছে। গুরুত্ব পেয়েছে হোম ডেলিভারি। এবার সবজি, ফলের হোম ডেলিভারিও ধীরে ধীরে শহরবাসীর মনে জায়গা করে নিতে শুরু করেছে। এক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ায় পেজ তৈরি করা হচ্ছে। ফল, সবজির জন্য এগ্রিমেন্ট করা হচ্ছে চাষিদের সঙ্গে। আকর্ষণ বাড়াতে প্রধানত জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদনকারী চাষিদের সঙ্গেই এগ্রিমেন্ট হচ্ছে। ভ্যারাইটি যাতে বাড়ানো যায় তার জন্য চুক্তিতে একাধিক ফসল উৎপাদনকারী চাষি থাকছেন। এরপরই সুলভ ফসলের লিস্ট করে সেটি পেজে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে কেউ অর্ডার দিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেটি ডেলিভারি করা হচ্ছে। প্রধানত অর্ডারের পরের দিন সকাল ৮টার মধ্যেই ডেলিভারির টার্গেট রাখা হচ্ছে। আকর্ষণীয় করে মাসিক প্যাকেজ কিংবা নতুন সবজি অথবা ফলের প্যাকেজ করে দেওয়া হচ্ছে। রেশমি বলছিলেন, চার বছর ধরে আমি পুনেতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের কাজ করতাম। লকডাউনের সময় বাড়ি চলে আসি। তখন থেকেই ভাবছিলাম নিজের মতো কিছু করার। প্রথম দিকে অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে ডেলিভারি বয়কে অর্ডার পাওয়া বাড়িতে পাঠাতাম। বেশ কিছুক্ষেত্রে আমি নিজেই গিয়েছি। কিন্তু এখন দেখছি শহরের বহু মানুষই এই জিনিসটা পছন্দ করছেন। এখন আমি অ্যাপও বানিয়ে নিয়েছি। ছোট পরিবার, বড় পরিবার সব ক্যাটিগোরির পরিবার থেকেই অর্ডার পাচ্ছি। এই ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি।

- Advertisement -

সবজি উৎপাদনকারী চাষিরাও অন্য চাষিদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি ক্রেতাদের বাড়িতে পৌঁছে যেতে শুরু করেছেন। পেশায় কৃষক রণদীপ সাহা বলেন, আমি যে সব ফসল ফলাই, সেগুলির পাশাপাশি এক্ষেত্রে আমাদের আরও ফসলের প্রয়োজন। তাই অন্য চাষিদের সঙ্গেও চুক্তি করে আমরা সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অর্ডারের বিনিময়ে ক্রেতার বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছি। মাসে কম করেও ১০ হাজার টাকা আয় হয়ে যাচ্ছে। এমনকি প্যাকেজিং থেকে শুরু করে ডেলিভারি, সব মিলিয়ে কম করে হলেও দশজন মানুষ প্রয়োজন হওয়ায় নতুন করে কর্মসংস্থানের পথও খুলতে  শুরু করেছে।

শহরের বাসিন্দা প্রজেনজিৎ পাল বলেন, ব্যবসার কাজের দরুন বেশিরভাগ সময়ে আমি বাইরে থাকি। সব সময়ে বাজারে যাওয়া সম্ভব হয় না। এই নতুন সুবিধা আমার এই সমস্যা অনেকটাই মিটিয়ে দিয়েছে। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি বিভাগের সেন্ট্রাল অফ ফ্লোরিকালচার অ্যান্ড এগ্রি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (কোফাম)-এর  টেকনিকাল হেড অমরেন্দ্র পান্ডে বলেন, আগে জৈব পদ্ধতিতে ফসল ফলানো চাষিরা আমাদের জিজ্ঞাসা করতেন যে তাঁরা কোথায় ফসল বিক্রি করে উপযুক্ত দাম পাবেন। এই নতুন ট্রেন্ড সে সমস্যাটা অনেকটাই মিটিয়ে দিল।