শৌচালয়ের অভাবে দূষিত হচ্ছে শিলিগুড়ি শহর

470

আদর্শনগরে অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে শৌচালয়। ছবি : শমিদীপ দত্ত

শিলিগুড়ি, ৩ অগাস্ট : শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গানগর কলোনির নীচ এলাকা থেকে আর্দশনগর মাঠ পর্যন্ত বাঁধ সংলগ্ন এই বস্তিতে পঞ্চাশটিরও বেশি খাটা পায়খানা থাকায় প্রতিনিয়ত দূষণ ছড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, পুরনিগমের বস্তি উন্নয়ন বিভাগে আবেদন করা হলেও আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি। কেউ কেউ শৌচালয় তৈরির জন্য অর্ধেক টাকা পেলেও বাকি টাকা পাননি বলে অভিযোগ। শুধু ওই এলাকাই নয়, শহরজুড়ে প্রচুর খাটা পায়খানা থাকলেও পুরনিগমের তরফে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে শনিবার নাগরিক কনভেনশনে পুরনিগমকে একহাত নিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব।

- Advertisement -

মন্ত্রী বলেন, শহরজুড়ে প্রচুর খাটা পায়খানা রয়েছে। কিন্তু পুরনিগমের কাছে পর্যাপ্ত ফান্ড থাকা সত্ত্বেও শৌচালয় তৈরি হচ্ছে না। পুরনিগমের বস্তি উন্নয়ন বিভাগের মেয়র পারিষদ পরিমল মিত্র অবশ্য বলেন, সুডায় নির্দিষ্ট খাতে টাকা আসে। আমরা সেই হিসেবে যে কাউন্সিলার যতগুলি শৌচালয়ের আবেদনপত্র দিচ্ছেন, সেই হিসেবে আমরা অর্থ বরাদ্দ করছি।

শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহানন্দা নদী সংলগ্ন বস্তিটি প্রায় তিরিশ বছর পুরোনো। গোটা এলাকায় অন্তত ছয়শোর বেশি বাসিন্দা বসবাস করেন। বস্তিটি পুরোনো হলেও এলাকায় ঘুরলেই শৌচালয় নিযে সমস্যার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। বছর দুয়েক ধরে শৌচালয় তৈরির জন্য আবেদন করে চলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা আফরোজ খান। তিনি বলেন, আমার বাড়িতে দশজন সদস্য রয়েছেন। নিয়ম মেনে আমি দুবছর ধরে লিখিত আকারে শৌচালয়ের জন্য আবেদন করে আসছি। আশ্বাস পেলেও আদতে কিন্তু কিছুই পাচ্ছি না। বাধ্য হযে খাটা পায়খানা বানাতে বাধ্য হয়েছি। আফরোজ যখন শৌচালয় তৈরির জন্য লিখিত আকারে আবেদন করে যাচ্ছেন তখন শৌচালয় তৈরির জন্য অর্ধেক টাকা পেলেও বাকি টাকা দীর্ঘদিন ধরে পাননি বলে ক্ষোভপ্রকাশ করলেন জাহিন খান। অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় থাকা শৌচালয় দেখিযে তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে পাঁচ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। ওই টাকায় কাজ শেষ হলে ফের বাকি পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রথম কিস্তিতে দেওয়া পাঁচ হাজার টাকার কাজ শেষ হওয়ার পর প্রায় দুবছর কাটতে চলল। ওয়ার্ড কাউন্সিলারের কাছে বিষয়টি জানানোর পরেও বাকি টাকা আসেনি। একই অভিযোগ স্থানীয় আরেক বাসিন্দা ফিরদৌস খানের। তিনি বলেন, শৌচালয় না তৈরি হওয়ায় আমাদের পরিবারের সকলকে সরাসরি নদীতে শৌচকর্মের জন্য যেতে হচ্ছে। এরমধ্যেই শৌচালয় তৈরির জন্য যে মাটি খোঁড়া হয়েছিল তাতে বৃষ্টি হলেই জল জমে থাকায় ডেঙ্গুর আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে।

হিমালয়ান নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের কোঅর্ডিনেটর অনিমেষ বসু বলেন, শুধু ওই এলাকার মানুষগুলোই নয়, গোটা শহরে এখনও তিরিশ হাজার মানুষ শৌচালয় থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। মহানন্দা ছাড়াও শহরের মধ্যে দিযে যাওয়া নদীগুলিকে তাঁদের মধ্যে কেউ বাধ্য হযে খাটা পায়খানা হিসেবে ব্যবহার করছেন। শহরের নদীগুলির দূষণের অন্যতম কারণ এই শৌচালয়ের সমস্যা।  কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে ফান্ড রয়েছে। পুরনিগমের উচিত ওই ফান্ডগুলির ব্যবহার করে দ্রুত শহরের এই শৌচালয়ের সমস্যা দূর করা।