সাহু নদীর গ্রাসে বৈকুণ্ঠপুরের জঙ্গল

113

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : পাড় ভাঙছে। সাহু নদী বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলকে গিলে চলেছে। বর্ষা শেষে নদীতে তেমন জল না থাকলেও প্রায়দিনই গাছ উপড়ে পড়ছে। আর কিছু যুবকের এখন সেই গাছের দিকে নজর। যা রাতের অন্ধকারে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। বাঁধ দেওয়া না হলে যে ভবিষ্যতে ভাঙন রোধের পাশাপাশি জঙ্গল রক্ষা সমস্যার হয়ে দাঁড়াবে তা বনাধিকারিকরা মানছেন। আগামী বর্ষায় পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা নিয়ে উদ্বেগও ছড়িয়েছে।

বৈকুণ্ঠপুর বনাঞ্চলের এডিএফও জয়ন্ত মণ্ডল বলেন, নদীসংলগ্ন জঙ্গলের একটা অংশে ভাঙন ধরেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ইতিমধ্যে ভাঙনের কবলে কতটা পড়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই সংক্রান্ত রিপোর্ট উপরমহলকে পাঠানো হচ্ছে।

- Advertisement -

বর্ষার সময় আর দশটা নদীর সঙ্গে ডাবগ্রাম-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সাহু নদীও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। তবে অন্যান্য নদীর ভাঙনে বসতভিটে বা খেতের জমি নদীগর্ভে চলে গেলেও সাহু বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলের একটা অংশকে গিলতে শুরু করেছে। বর্ষার সময় ভাঙনের জেরে বেশ কয়েকটি গাছ জলে পড়ে যে শুধু ভেসে গিয়েছে তা নয়, বর্ষা শেষেও ভাঙন অব্যাহত। বর্ষার জল জঙ্গলের ভিতরে ঢুকে যাওয়ায় মাটি দুর্বল হয়ে পড়ায় এখন সেই ভাঙন অব্যাহত বলে অনেক বনাধিকারিকের বক্তব্য। স্থানীয়দের বক্তব্য, বেশ কয়েক মাস ধরেই সাহু জঙ্গল সংলগ্ন নদীর পাড় ভাঙছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি গাছ উপড়েও পড়েছে।

ছোটাফাঁপড়ির বাসিন্দা প্রিয়তোষ সাহা সাহু সেতু দিয়ে প্রত্যেকদিন চলাচল করেন। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে চোখের সামনে একটা গাছ পড়ে যেতে দেখেছি। তবে গাছটি পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফরেস্টের একটি গাড়ি চলে এসেছিল এবং গাছটি কেটে নিয়ে যায়। জয়ন্তবাবু জানান, কেউ যাতে পড়া গাছ কেটে নিয়ে যেতে না পারে, তার জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত পেট্রলিং করা হয়।

কিন্তু সন্ধ্যা বা রাতে যদি নদীর জলে গাছ উপড়ে পড়ে? স্থানীয় অনেকেরই বক্তব্য, বন দপ্তর আর সেই গাছ উদ্ধার করতে পারে না। নদীতে গাছ পড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কিছু যুবক জড়ো হয়ে যায়। রাতারাতি চোরাপথে কিছু গাছ বিক্রি হয়ে যায়। বর্ষার সময় অনেক গাছ জলে ভেসে কিছুটা দূরে আটকে যাওয়ার পর সেই গাছও নদী থেকে তুলে বিক্রি করার ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল বলে অনেকের অভিযোগ।

যদিও এটা কোনও নতুন ঘটনা নয়। উত্তরবঙ্গের একাধিক নদীকে কেন্দ্র করে বর্ষার সময় কাঠ পাচারের ঘটনা পুরোনো। তবে সাহু নদী যেভাবে বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলকে ভাঙছে, তাতে অনেকেই উদ্বিগ্ন। এখনই নদীপাড়ে বাঁধ দেওয়া সম্ভব না হলে বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলের একটা বড় অংশ সাহু নদীর গর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা স্থানীয়দের মনে দানা বেঁধেছে।