নালার গর্ভে যাচ্ছে ধানের  খেত, মাথায় হাত চাষিদের

307

জামালদহ : অতি বৃষ্টির জেরে মারাত্মকভাবে ভূমিক্ষয় শুরু হয়েছে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের ১৫৮ নম্বর ছাট জামালদহ গ্রামের পরানেরবাড়ি এলাকায়। ব্যাপক ভূমিক্ষয়ে জেরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি। ভেসে যাচ্ছে ধানখেত। এ ঘটনায় মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে স্থানীয় কৃষকদের। তাঁরা জানিয়েছেন, জলের তোড়ে ধানের খেত সহ কৃষিজমি ভেঙে যাচ্ছে ব্যাপক হারে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু কীভাবে সমস্যার নিরসন হবে, তা জানা নেই কারও। এদিন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক অমল দাস সহ অন্যান্য আধিকারিকরা ওই এলাকা পরিদর্শনে যান।  ছাট জামালদহের কৃষকরা জানিয়েছেন, গোটা এলাকাটি কৃষিনির্ভর। বর্তমানে গ্রামের প্রায় ৯৫ শতাংশ জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়েছে। ফসল উঠতে আরও দুই থেকে আড়াই মাস দেরি। কিন্তু তাঁর গ্রামেই এ বছর শুরু হয়েছে নতুন সমস্যা। ব্যাপক হারে ভূমিক্ষয় শুরু হয়েছে ছাট জামালদহের পরানেরবাড়ি এলাকায়।

কৃষকরা জানিয়েছেন, ভাদ্রের অতিরিক্ত বৃষ্টিতে কৃষিজমি ভেঙে নীচু হয়ে তৈরি হয়েছে একটি লম্বা নালা। এখন সেই নালা দিয়ে জলের স্রোত বইছে। আর নালার দুপাশের জমি ব্যাপক হারে ভাঙছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শুধু কৃষিখেতই নয়, গ্রামের একমাত্র পাকা রাস্তাটিও বিপন্ন হয়ে পড়েছে। কৃষকরা সারা বছর যা ফসল ফলান, তার মধ্যমণি হল এই আমন ধান।  অথচ সেই ধানের খেত ধানের চারা সহ এখন জলে ভেসে যাচ্ছে। ফলে মহা দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন ওই এলাকার বহু ধানচাষি। অতিদ্রুত তাঁরা জমির ভাঙন প্রতিরোধের জন্য পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। এলাকার কৃষক নরেন বর্মন, অজিত বর্মন, ব্রজেন বর্মন, রাজেন বর্মন, বিপিন বর্মন, সুভাষ বর্মন প্রমুখ বলেন, গ্রামে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে। যেভাবে জলের তোড়ে একের পর এক কৃষিজমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে তাতে আমাদের পথে বসা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না। কারণ, ধান না উঠলে আমরা খাব কী? আমাদের বাঁচান।

- Advertisement -

জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গীতা বর্মন এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ছাট জামালদহ এলাকায় প্রায় চার-পাঁচ একর কৃষিজমির একটা বিরাট অংশ সাম্প্রতিক বৃষ্টির জেরে জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। এখনও ওই এলাকায় ভূমিক্ষয় অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে। সমস্যা নিরসনের জন্য যথাযথ জায়গায় জানানো হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভাঙন রোখার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ব্যাপারে জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক অমলবাবু এদিন জানিয়েছেন, কৃষকদের জমি ভাঙনের বিষয়টি জানিয়ে মৃত্তিকা সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। তারপর যা ব্যবস্থা নেওয়ার তারাই নেবে। মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিডিও সাঙ্গে ইউডেন ভুটিয়াও জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করা হবে।