শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি : প্রশাসনের নাকের ডগায় নেওড়া নদী থেকে দিনের পর দিন বালি পাচার হচ্ছে। নদীতে আর্থমুভার নামিয়ে ডাম্পারে বালি তোলা হলেও প্রশাসন একেবারেই নির্বিকার। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, প্রশাসনের মদতেই এই অবৈধ কারবার চলছে। তাই কেউ কোনো পদক্ষেপ করছে না। সংবাদমাধ্যমে এনিয়ে লেখালেখি হলে কদিন চুপচাপ থাকে। তারপর আবার শুরু হয়ে যায় চোরাকারবার। মাল মহকুমা ভূমি ও ভূমিরাজস্ব দপ্তরের রেভিনিউ অফিসার দীপঙ্কর রায় অভিযোগ শোনার পর যথারীতি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু তিনি আদৌ কি কোনো ব্যাবস্থা নিতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রাই।

দীর্ঘদিন ধরেই লাটাগুড়ি উত্তর মাটিয়ালি সংলগ্ন নেওড়া নদী থেকে অবাধে বালি চুরি করা হচ্ছে। একশ্রেণির অবৈধ বালি কারবারি এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। উত্তর মাটিয়ালি নেওড়া নদীর যে জায়গা থেকে এই কারবার চলছে তার পাশেই রয়েছে পঞ্চায়েত সমিতির তৈরি মাটির বাঁধ। অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালি তোলায় এই বাঁধের ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এরকম চলতে থাকলে আগামী বর্ষায় এই বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হবার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি বালি বোঝাই সমস্ত ডাম্পার ক্যানালের রাস্তা হয়ে যাতায়াত করার ওই রাস্তাটিও বেহাল হয়ে পড়েছে। ওই রাস্তাতেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নিশানডোবা। যেখানে প্রতিবছর বহু মানুষ চড়ুইভাতি করতে ভিড় জমান। বালি বোঝাই ডাম্পার চলাচলের ফলে রাস্তাটির বহু অংশে বড়ো বড়ো গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দিন দিন আরও বেহাল হয়ে পড়ছে রাস্তাটি। এই অবস্থা চলতে থাকলে এবার পিকনিকের মরশুমে নিশানডোবা জনশূন্য থাকবে বলে আশঙ্কা ওয়াকিবহাল মহলের।

- Advertisement -

লাটাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জগবন্ধু সেন বলেন, যারা এই অবৈধ বালির কারবারের সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। লাটাগুড়ির স্থানীয় বাসিন্দা তথা মাল পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি মহুয়া গোপ জানান, এই কারবার বন্ধের জন্য পুলিশ ও প্রশাসনকে এর আগেও বলা হয়েছে। আবারও বলা হবে। মাল মহকুমা ভূমি ও ভূমিরাজস্ব দপ্তরের রেভিনিউ অফিসার দীপঙ্কর রায় জানান, সমস্ত জায়গায় অবৈধ বালি কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এখানেও অভিযান চালানো হবে।