পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি : জেলার ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পে চাষের জমিতে জল দিতে ৩০ কোটি টাকার সৌরবিদ্যুৎ চালিত ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে রাজ্য জল অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দপ্তর। জেলার প্রান্তিক চাষিদের সুবিধার্থেই এই প্রকল্পের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে জেলার ময়নাগুড়ি, মাল এবং মাটিয়ালি ব্লকে এই প্রকল্প রূপায়িত হতে চলেছে। তবে এরপর জেলার প্রায় ৮০টি গ্রাম পঞ্চায়েতেই এটি চালু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।

মাল ব্লকের কোদালবস্তি, ক্রান্তি, উত্তর সারিপাকুড়ি, দক্ষিণ হাঁসখালি, চ্যাংমারি ডাঙ্গাপাড়া, ধলাইবাড়ি, দলাইগাঁও, কুমলাই, দক্ষিণ চ্যাংমারি, ময়নাগুড়ি ব্লকের বৌলবাড়ি, পশ্চিম বড়গিলা, সাতভেণ্ডি, কুমারপাড়া, বাংলারঝাড়, কাওয়াগাব, ঝাড় বড়গিলা, পানবাড়ি, উত্তর কালামাটি ছাড়াও মেটেলি ব্লকের বড়দিঘিবস্তি, উত্তর ঝাড় মাটিয়ালি, পশ্চিম দলাইগাঁও, উত্তর খালপাড়া, কোদালকাঠি এলাকার কৃষিজমিতে সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে গভীর নলকূপ দিযে সেচ পরিসেবা দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে অথবা অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ এই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন জল অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সুব্রত মিত্র। তিনি বলেন, রাজ্যে জলসম্পদ ও জল অনুসন্ধান দপ্তরের অধীন ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যাক্সিলারেটেড ডেভেলপমেন্ট অফ মাইনর ইরিগেশন প্রোজেক্ট বা ডব্লিউবিএডিএমআই থেকে প্রকল্পটির রূপায়ণ করা হচ্ছে। অর্থ দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক।

সৌরবিদ্যুত্ দিযে গভীর নলকূপ ছাড়াও মেটেলির বড়দিঘিবস্তি ও ময়নাগুড়ির রামশাইতে সৌরবিদ্যুত্ দিয়ে নদী থেকে জল উত্তোলনের আরেকটি প্রকল্প আলাদা করে হচ্ছে।

রামশাইয়ের বাসিন্দা সুবল রায় বলেন, আমাদের মতো কৃষকদের পক্ষে নিজের খরচে সেচের জন্য গভীর নলকূপ তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই এই প্রকল্প চালু হলে আমাদের সুবিধা হবে। মেটেলির বড়দিঘির জিয়ানুর আলি বলেন, সরকারি এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আমাদের মতো আর্থিকভাবে দুর্বল বহু কৃষক উপকৃত হবেন।

জল অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সুব্রত মিত্র জানান, ময়নাগুড়ি, মাটিয়ালি এবং মাল ব্লকের এইসব কৃষিপ্রবণ এলাকায় সৌরবিদ্যুত্চালিত প্রায় ২৩৮টি গভীর নলকূপ তৈরি করা হচ্ছে। জেলায় মোট ৮৮৭টি পয়েন্টে সৌরবিদ্যুত্চালিত ইউনিট চালু করার ফলে মোট ৫ হাজার ২২২ হেক্টর জমিতে কৃষিকাজে সেচের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে জেলার জলপাইগুড়ির সদর, ধূপগুড়ি ব্লকে এই প্রকল্প পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু করে সাফল্য এসেছে। তাই এবার মাল, মাটিয়ালি ও ময়নাগুড়ির  চাষিদের জন্য এই ২৩৮টি ইউনিট চালু হচ্ছে। এইসব সৌরপাম্প প্রথমে সরকারিভাবে চালানো হলেও পরে এগুলি কৃষকদের নিযে তৈরি হওয়া স্বীকৃত জল ব্যবহারকারী সংস্থাদের দিয়ে দেওয়া হবে বলে সুব্রতবাবু জানান। তিনি আরও বলেন, একমাত্র মেটেলির ২টি জায়গায় নদী থেকে জল উত্তোলন প্রকল্পে সৌরশক্তি ব্যবহার করে জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। বাকি প্রকল্পগুলির মধ্যে সবকয়টিতেই সৌরবিদ্যুত্ পরিচালিত গভীর নলকূপ দিযে সেচের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।