পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি : একদিকে জলপাইগুড়ি জেলার তিনটি পুরসভা সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প রূপায়ণে জমি সমস্যায় জর্জরিত, পুর এলাকার জৈব ও অজৈব আবর্জনা থেকে পুরসভা জৈব জ্বালানি তৈরি করতে পারছে না। অন্যদিকে, সরকারি উদ্যোগেই বেলাকোবা কৃষক বাজারের জমিতে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের ইউনিট গড়ে তা থেকে বিদ্যুত উত্পাদনের উদ্যোগ নিল জলপাইগুড়ি নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতি।

জলপাইগুড়ি নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির অধীনে জেলার বেলাকোবা, ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়িতে আলাদা আলাদা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতি রয়েছে, যাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষক বাজারগুলি পরিচালিত হয়। মাটিয়ালি ব্লকে আরও একটি কৃষক বাজার থাকলেও নাগরাকাটায় আলাদা করে নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতি তাদের জমিতে হাটবাজার করার অনুমতি দিয়েছে। এই সমস্ত কৃষক বাজারের মধ্যে বেলাকোবা, ময়নাগুড়ি ও ধূপগুড়ি কৃষক বাজার মূলত কৃষি অধ্যুষিত বলয়ে অবস্থিত। সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে কৃষকরা এখানে বিভিন্ন প্রকার সবজি নিয়ে আসেন। হাট শেষে অনেক সবজি কৃষক বাজারে পড়ে থাকে। সবজির খোসা, নষ্ট সবজি, ডাঁটা- এগুলি অনেকে বিনামূল্যে নিজেদের গবাদিপশুর জন্য বস্তাবন্দি করে নিয়ে যান। এর পরিমাণ প্রায় ৫০ কেজির কাছাকাছি। কিন্তু তারপরও কৃষক বাজারে ১০০-১২০ কেজির মতো সবজির ডাঁটা, খোসা ও নষ্ট সবজি পড়ে থাকে। সেগুলি পচে দুর্গন্ধ বের হয়। সেসব ফেলার অন্য কোনো জায়গাও নেই। কারণ স্থানীয় পুরসভা কিংবা পঞ্চায়েছের সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প নেই য়েখানে এগুলি পাঠিয়ে দিয়ে কিছু করা যাবে।

এই পরিস্থিতিতে জলপাইগুড়ি নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতি নিজেদের খরচে বেলাকোবা কৃষক বাজারে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুত উত্পাদনের ইউনিট তৈরি করেছে। বেলাকোবা কৃষক বাজার থেকে প্রায় ১০০ কেজি নষ্ট সবজি, সবজির ডাঁটা ও খোসা এই ইউনিটে দিয়ে জৈব জ্বালানি তৈরি হবে। ১০০ কেজি সবজির খোসা, ডাঁটা, নষ্ট সবজি ব্যবহার করে যে বিদ্যুত উত্পাদন হবে তা দিয়ে ৬ ঘণ্টা কৃষক বাজারের বিদ্যুত  পরিসেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান জলপাইগুড়ি জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির সচিব দেবাঞ্জন পালিত।

এই ইউনিট তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৭ লক্ষ টাকা। আর কিছুটা যান্ত্রিক কাজ বাকি আছে, যাতে আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা খরচ হবে। নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির আশা, ডিসেম্বরের শেষে নয়তো জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই বেলাকোবার এই ইউনিট চালু হয়ে যাবে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাজার বসে কৃষক বাজারগুলিতে। দিনের আলোতেই বাজার বসে। কিন্তু দোকান, গুদাম, সমিতির অফিস ও সমিতির প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বিদ্যুতের প্রযোজন হয়। তাই ৬ ঘণ্টা বিদ্যুত মিললে তা যথেষ্ট। এই প্রকল্প পাইলট প্রকল্প হিসেবে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুত তৈরির পর বাড়তি হিসেবে জৈব সার পাওয়া যাবে প্ল্যান্ট থেকে। সাফল্য পেলে ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ির কৃষক বাজারেও এরকম ইউনিট বসানো হবে বলে দেবাঞ্জনবাবু জানান।