জঞ্জালের স্তূপে মুখ ঢেকেছে নকশালবাড়ি

121

চন্দন বাগচী, নকশালবাড়ি : জঞ্জালের স্তূপে মুখ ঢাকছে নকশালবাড়ি। সলিড ওয়েস্ট ম্যানজেমেন্ট প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ায় নকশালবাড়ির পাড়ায় পাড়ায় এখন জঞ্জালের স্তূপ। সাফাই ও প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত অন্য কর্মীরা দুমাস ধরে তাঁদের প্রাপ্য না পাওয়ায় ২৯ ডিসেম্বর থেকে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। নিজেদের সমস্যার কথা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানালেও কোনও সমাধান হয়নি। ফলে বাজার থেকে পাড়া সর্বত্রই জঞ্জালের স্তূপ ক্রমশ বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে ছড়াচ্ছে দূষণও। এই মুহূর্তে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রশাসকের অধীনে। ফলে পঞ্চায়েতের কাস্টডিয়ান তথা স্থানীয় বিডিও বলেন, পঞ্চায়েত অটোনমাস বডি, এই প্রকল্পের খরচ পঞ্চায়েত নিজেরাই চালাবে, প্রশাসন শুধু মেইনটেনান্স বাবদ টাকা দেবে। কী হয়েছে তা দেখতে হবে।

৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নকশালবাড়িতে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প চালু হলেও বাস্তবে কার্যত তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব এর উদ্বোধন করেছিলেন। এ নিয়ে কয়েক দফায় প্রশিক্ষণও হয়েছিল। বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন বর্জ্য সংগ্রহ করে তা থেকে উন্নত মানের সার তৈরি হওয়ার কথা ছিল এই প্রকল্পে। কিন্তু বাস্তবে এখন দেখা যাচ্ছে পুরো প্রকল্পটিই কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ছে। বিগত দিনে প্রকল্প শুরুর মুখে প্রত্যেক পাড়ায় বাড়ি বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য মাসে ৩০ টাকা করে নেওয়া হত। এছাড়া ময়লা ফেলার জন্য সবুজ ও লাল বালতি দেওয়া হয়েছিল। কিছুদিন চলার পর হঠাত্ করে সেটাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কিছুদিন আগে অবধি হাতেগোনা কয়েকটি পাড়ায় সেটি চালু থাকলেও বর্তমানে সবটাই বন্ধ বলে কর্মীরা জানিয়েছেন। কর্মীদের দাবি, তাঁরা দুমাস থেকে কোনও টাকা পাচ্ছেন না।

- Advertisement -

নকশালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের হুদুভিটায় ২০১৯ সালের ২ অক্টোবর সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের উদ্বোধন হয়েছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব ছাড়াও শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অধ্যাপক তাপস সরকার এবং অন্য বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে পরেও এটি উপযুক্ত দেখভাল ও পরিকল্পনার অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। কর্মীরা টাকা না পেয়ে কাজ বন্ধ রেখেছেন। ফলে এলাকার আবর্জনা সমস্ত নদীতে ফেলা হচ্ছে। কেউ কেউ রাস্তার পাশেই আবর্জনা ডাঁই করে রেখেছেন। ফলে পরিবেশ দূষণ ঘটছে। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের কর্মী বীরেন সরকার, মহম্মদ জালিম শেখরা জানান, দুমাস থেকে কোনও টাকা-পয়সা মিলছে না। কবে টাকা পয়সা পাব তা-ও কেউ বলছেন না। ফলে তাঁরা কাজ বন্ধ রেখেছেন। সূত্রের খবর, গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে কিছু টাকা দেওয়া হয়েছিল। তা দিয়ে আবর্জনা পরিবহণের টোটো আর কর্মীদের টাকা দেওয়ার পর সবটাই শেষ। গোটা প্রকল্পে ১৭ জন সাফাইকর্মী ও শ্রমিক ছাড়াও ১২ জন সুপারভাইজার রয়েছেন। এরা কেউই কোনও পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। সকলেই একসুরে জানিয়েছেন পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তাঁরা কেউই কাজে যোগ দিচ্ছেন না। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের কর্মীরা তাঁদের সমস্যার কথা বিভিন্ন মহলে জানিয়েছেন। ২৯ ডিসেম্বর ২০২০ থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর ২০২০ গ্রাম পঞ্চায়েত সহ বিভিন্ন মহলে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু এখনও কোনও কাজ হয়নি। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি তাপস সরকার বলেন,  সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট হয়েছে ঠিকই। তবে এটা চলবে কি না তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। প্রত্যেক বাড়ি থেকে কালেকশন আর পঞ্চায়েতের কিছু টাকা দিয়ে এটা চলার কথা ছিল কিন্তু প্রশাসনিক কিছু অপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য সমস্যা হচ্ছে।