রাজ্যে ৬৯টি মডেল গ্রামে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : পুরনিগম এবং পুরসভাগুলির পরে এবার গ্রাম পঞ্চায়েতস্তরেও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প চালু করতে চলেছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। প্রাথমিকভাবে রাজ্যের ৬৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতকে এই প্রকল্পের জন্য মডেল হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। পঞ্চায়ে এবং গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে কাজ শুরুর জন্য প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে ২০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। চলতি বছরের মধ্যেই মডেল গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে এই প্রকল্প চালু করতে চায় দপ্তর।

রাজ্যের পুরনিগম এবং পুরসভাগুলিতে ইতিমধ্যেই সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প চালু হয়েছে। এবার গ্রামাঞ্চলেও এই প্রকল্প চালু করতে তৎপর হয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তর। মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পে প্রত্যেকটি গ্রামে, প্রত্যেক বাড়িতে শৌচালয় তৈরি করার পরে এবার স্বচ্ছ, সুস্থ গ্রাম গড়তেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে পঞ্চায়েত দপ্তর সূত্রের খবর। গত মাসে পঞ্চায়েত ভবনে এই ইশ্যুতে পঞ্চায়েত দপ্তর, মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পের আধিকারিক এবং বিভিন্ন জেলার পঞ্চায়েত দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকও হয়। ওই বৈঠকে স্থির হয়, ২০২০ সালের মধ্যে রাজ্যের প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েতেই সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প চালু করা হবে। এরই প্রথম ধাপ হিসাবে ৬৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতে মডেল হিসাবে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

- Advertisement -

এই তালিকায় শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের খড়িবাড়ি ব্লকের বুড়াগঞ্জ ও নকশালবাড়ি সদর গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ফাঁসিদেওয়া ব্লকের ঘোষপুকুর, বিধাননগর-১ ও বিধাননগর-২ গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। পঞ্চায়েত দপ্তর সূত্রে খবর, প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে এই প্রকল্পে মোট ৭০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। এর মধ্যে মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্প থেকে প্রথম ধাপে কাজ শুরুর জন্য ২০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ন্যূনতম ৫০০ বাড়িকে এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে। প্রত্যেক বাড়িতেই একটি সবুজ এবং একটি লাল ঝুড়ি দেওয়া হবে। পচনশীল আবর্জনা সবুজ ঝুড়িতে এবং অপচনশীল বর্জ্য লাল ঝুড়িতে ফেলতে হবে। প্রতিদিন গ্রাম পঞ্চায়েতের এই প্রকল্পের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে সেই ঝুড়ির আবর্জনা নিয়ে আসবেন।

পচনশীল আবর্জনা এক জায়গায় রেখে সার তৈরি করা হবে। অপচনশীল বর্জ্যের প্রক্রিয়াকরণ করার ব্যবস্থা করা হবে অথবা সেগুলি পুড়িয়ে ফেলার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তাপস সরকার বলেন, আমরা সরকারি নির্দেশ মেনে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছি। পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েতেরই ডিটেইলড প্রোজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি করে পাঠানো হয়েছে।