নকশালবাড়িতে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের ডাস্টবিনে আবর্জনার পাহাড়

নকশালবাড়ি : লকডাউনে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প বন্ধ থাকায় পাড়ায় পাড়ায় আবর্জনার পাহাড় জমে উঠেছে। শুধু তাই নয়, লকডাউনের মধ্যে বাড়ি বাড়ি আবর্জনা তোলা বন্ধ রয়েছে। এর ফলে সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয়রা।

নকশালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিটি সংসদ এলাকায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাতিষ্ঠানিক সশক্তিকরণ কর্মসূচি প্রকল্প, মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পে অন্তত ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে নকশালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের হুদূভিটা এলাকায় সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পটি গত বছর ২ অক্টোবর থেকে চালু করা হয়। এই প্রকল্পটির মাধ্যমে উৎকৃষ্টমানের কেঁচো সার ও জৈব সার তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভালোভাবে কাজ শুরুর আগেই লকডাউনের জেরে প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। সূত্রের খবর, করোনা ভাইরাসের প্রকোপে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত সুপারভাইজার, সাফাইকর্মী, ট্যাক্স কালেক্টর কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অভাবে প্রকল্পটি বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। গত চল্লিশদিন ধরে কোনও সংসদে আবর্জনার গাড়ি ঢুকছে না। ফলে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে দেওয়া প্রতিটি ডাস্টবিনে আবর্জনার পাহাড় জমে উঠেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ।

- Advertisement -

এদিন এলাকায় গিয়ে দেখা গেল নকশালবাড়ি সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছে। যেখানে-সেখানে পড়ে রয়েছে আবর্জনা। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য জিতেন বর্মন জানান, লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে প্রকল্পটি চালু হলেও কঠিন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এখনও আসেনি। ফলে পুরো এলাকাটি ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা নির্মল দে জানান, দোকানপাট বন্ধ থাকলেও এলাকার প্রতিটি ডাস্টবিন আবর্জনায় ভরে গিয়েছে। কিন্তু সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের কোনও কর্মীকে দেখা যাচ্ছে না। ফলে অনেকেই রাস্তার উপর বাড়ির আবর্জনা ফেলে দিচ্ছেন। একই অবস্থা নকশালবাড়ি মাছ বাজার ও হাটশেডগুলির। ফলে এলাকায় মশা-মাছি বাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ। ২০১৯ সালের ২ অক্টোবর পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব আনুষ্ঠানিকভাবে নকশালবাড়ি সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। লক্ষ লক্ষ টাকা পরিকল্পনামাফিক ব্যবহার না করায় সরকারি টাকার অপচয় হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।

কেঁচো সার ও জৈব সার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল যেমন সবজির খোসা, গোবর, গাছের পাতা, অগাছা ইত্যাদি সংগ্রহের জন্য ৩৫ জন কর্মীকে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টে নিযোগ করা হয়েছিল। প্রশাসনের উদাসীনতা, কর্মীদের ঢিলেঢালা মনোভাব এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে পুরো প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও নকশালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অরুণ ঘোষ বলেন, লকডাউনের জন্য শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করেছেন। বাড়ি বাড়ি আবর্জনা সংগ্রহ করতে যেতে অনেকেই ভয় পাচ্ছেন। তাই আপাতত সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা আগামী মাস থেকেই পুনরায় প্রকল্পটি চালুর চেষ্টা করব।