সোমেন মিত্রের স্ত্রী ও পুত্রের বিজেপিতে যোগ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

115

কলকাতা: প্রয়াত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রের স্ত্রী শিখা মিত্র ও পুত্র রোহন মিত্রের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার রাতেই শুভেন্দু হাজির হয়েছিলেন সোমেন মিত্রের বাড়িতে। সেখানে দীর্ঘক্ষন সোমেনবাবুর স্ত্রী ও পুত্রের সঙ্গে আলোচনা হয়। তারপরই বিজেপিতে যোগদান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

এছাড়াও সম্প্রতি সোমেন মিত্রের স্ত্রী শিখাদেবী সেই জল্পনায় ঘৃতাহুতি দিয়েছেন। সোমবার শিখা মিত্র সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, প্রদেশ কংগ্রেসের বর্তমান তথাকথিত নেতারা, যারা একসময় সোমেন মিত্রের হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছিলেন আজ তাঁরা ক্ষমতায় বলীয়ান হয়ে সেই সোমেন মিত্রের পরিবারকেই অবজ্ঞা ও অবহেলা করছেন। যদিও তিনি এ ব্যপারে প্রদেশ কংগ্রেসের কোন নেতৃত্বের নাম করেননি। তবে, আকার ইঙ্গিতে তিনি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন।যদিও শিখাদেবী সরাসরি বিজেপিতে যাওয়ার ব্যপারে কোনওরকম মুখ খোলেননি। এদিন তিনি আরও জানান, আগামী বুধবার দলের সর্বভারতীয় সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধির সঙ্গে রয়েছে একটি বৈঠক। তারপরই যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার তা নেবেন।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও নেতৃত্বের সঙ্গে তেমন মধুর সম্পর্ক নেই সোমেন স্ত্রী ও পুত্রের। যদিও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে আসীন হয়েই অধীরবাবু ছুটেছিলেন প্রয়াত সোমেন মিত্রের বাড়িতে। সেখানে তিনি তাঁর স্ত্রী ও পুত্রের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস জানিয়েছিলেন। শুধু তাই নয় সোমেন পুত্রকে তিনি দলের রাজ্য সম্পাদক হিসেবেও নিয়োগ করেন। কিন্তু সোমেন মিত্রের পুত্রের পছন্দমত জায়গায় দায়িত্ব দিতে রাজি হননি অধীরবাবু। সোমেন পুত্র রোহন মিত্র চেয়েছিলেন মধ্য কলকাতার দায়িত্বভার গ্রহণ করতে। শুধু তাই নয় তিনি আরও চেয়েছেন যে তাঁর মায়ের পুরনো বিধানসভা কেন্দ্র চৌরঙ্গী থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে। প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে সম্ভবত সেই আসন দিতে  রাজি নয় বুঝতে পেরেই সম্ভবত এই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন সোমেন স্ত্রী ও পুত্র বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চৌরঙ্গী কেন্দ্র থেকেই তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন শিখা মিত্র। পরবর্তীতে সোমেনবাবু তৃণমূলের সাংসদের পদ থেকে পদত্যাগ করার পরই বিধায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন শিখাদেবী।