কখনও সাধুর বেশ, কখনও বা শিখ সাজতে হয়েছিল তাঁকে, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

174

পোর্টাল ডেস্ক: পুলিশের হাত থেকে বাঁচার জন্য কখনও সাধু সেজে আবার কখনও শিখ সেজে গা ঢাকা দিয়েছেন তিনি। কখনও আবার পুলিশের হাতে ধরা পড়া প্রচারকের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। কখনও সরকারিভাবে নিষিদ্ধ বই ছাপানোর কাজ করেছেন।

কী ভাবছেন? কোনও সিনেমার গল্প বলছি?

- Advertisement -

যদি এটায় ভেবে থাকেন, তবে আপনি ভুল!

এই গল্প ভারতবর্ষের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন মধ্যরাতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। স্তম্ভিত হয়ে যায় দেশের মানুষজন। কিন্তু এই জরুরি অবস্থা ঘোষণার সঙ্গেই বিরোধী নেতাদের কণ্ঠরোধ করার কাজও শুরু করে দেয় ইন্দিরা সরকার। আর সরকারের এই কোপ থেকে রেহায় পায়নি রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের নেতারাও। কারণ সে সময় তারাও ওই জরুরি অবস্থার বিরোধিতা করেছিল। অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। আবার অনেকে পালিয়ে গিয়েছিল। আর পুলিশের চোখে পালিয়ে যাওয়া নেতাদের মধ্যে একজন ছিলেন নরেন্দ্র মোদি।

এই সমস্ত কথা তিনি নিজেই জানিয়েছেন ‘‌সংঘর্ষমা গুজরাট’ নামে একটি বই-এর মাধ্যমে। ‌জরুরি অবস্থার সময় গুজরাটে সংঘ প্রচারকদের কীভাবে লড়তে হয়েছিল, তা নিয়ে বই লিখেছিলেন বিচার বিনিময় কেন্দ্র নামে এক সংগঠনের সদস্য। সেই বইয়ের ভূমিকায় দু’‌-এক পাতা নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। রাজনীতিক হিসেবে নয়, এক জন স্বয়ং সেবক হিসেবে। সেই সময়ে তাদের কিভাবে গাঢাকা দিয়ে চলতে হত, কিভাবে তারা নিষিদ্ধ বই ছাপাতেন, ধরা পড়ে যাওয়া প্রচারকদের বাড়ির পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন- সেই সমস্ত কথায় লিখেছেন এখানে তিনি। সেই অজ্ঞাতবাসের সময়েই তাঁর পরিচিয় হয় জর্জ ফার্নান্ডেজের সঙ্গে। এরপর গুজরাটের বহু প্রেস ঘুরে হিন্দিতে লেখা কিছু বই ছাপানোর চেষ্টা করছিলেন মোদি। কেউই অবশ্য রাজি হয়নি । কারণ বইয়ে জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে প্রবন্ধ ছিল। অবশেষে এক ছাপাখানার মালিক রাজি হন। সেখানে বই ছাপিয়ে রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ সহ বিভিন্ন জায়গায় পাঠাতেন তিনি।