মাতৃ দিবসে মাকে ঠাঁই দিতে চাইলেন না সন্তানরা

384

আলিপুরদুয়ার : মা-হারা সন্তান যেখানে মাতৃস্নেহ পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে, সেখানে মাতৃ দিবসে মাকেই ঠাঁই দিতে চাইলেন না সন্তানরা। তিন মেয়ে ও এক ছেলে আশ্রয় দিতে অস্বীকার করায় অথই জলে পড়েন আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা, সত্তরোর্ধ্ব সন্ধ্যা ধর। বাধ্য হয়ে বৃদ্ধা ১১ নম্বর ওয়ার্ডে দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় চান। তিনিও আশ্রয় দিতে পারবেন না বলে জানান। ফলে তিনি আশ্রয় নেন পুরানো রেল কোয়ার্টারের ভাঙা বারান্দায়। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দিলে রবিবার রাত নয়টা নাগাদ পুলিশের হস্তক্ষেপে ছেলে মাকে বাড়িতে নিয়ে যান।

ঘটনার সূত্রপাত লকডাউনের আগে। কোচবিহারের মধুপুরে এক খুড়তুতো বোনের বাড়ি গিয়ে লকডাউনের জন্য আটকে পড়েন সন্ধ্যাদেবী। ছেলের সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পর্ক নেই। ফলে মেয়েদের কাছেই তাঁর আশ্রয় ছিল। কিন্তু মেয়েরা তাঁকে আশ্রয় দিতে রাজি হয়নি। সূর্যনগর, পানিয়ালগুড়ি ও শোভাগঞ্জে তাঁর তিন মেয়ে এবং নিউ আলিপুরদুযার স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ছেলে থাকেন বলে ওই বৃদ্ধা জানান। তিনি জানান, রবিবার বার্ধক্যভাতা তোলার জন্য মধুপুর থেকে পুণ্ডিবাড়ি হয়ে ভ্যানে চেপে আলিপুরদুয়ারে আসেন। কিন্তু ছেলে-মেয়েরা তাঁকে নিতে না চাইলে শেষ ভরসা হিসেবে আত্মীয়ের বাড়ি যান। সেখান থেকেও কোনও ভরসা না পেয়ে দিশাহীন হয়ে পড়েন তিনি। ওই বৃদ্ধা বলেন, ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মেয়েদের কাছে থাকতেন তিনি। এখন মেয়েরাও নিতে চাইছে না। লকডাউনের ফলে আমার কাজ নেই। কী করব বুঝে উঠতে পারছি না। পার্থ সরকার নামে একজন বাসিন্দা জানান, সারাদিন ধরে ওই বৃদ্ধা কান্নাকাটি করছিলেন। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও কেউ তাঁকে নিতে আসেনি। পরে পুলিশকে সব কিছু জানানো হয়। পুলিশ রাত নয়টা নাগাদ তাঁর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। পুলিশ ও আমাদের কথায় ছেলে মাকে বাড়ি নিয়ে যায়। মাতৃ দিবসে এমন ঘটনা লজ্জাজনক। অবশ্য আলিপুরদুয়ার থানার আইসি রবীন থাপা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তবে একজন মা আশ্রয় পেয়েছেন, এটা ভালো কথা।

- Advertisement -