সম্পত্তি না পাওয়ায় বাবার দেহ নিল না ছেলে

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ : বৃদ্ধ বাবার মৃত্যুর পর হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফোন করা হলে ছেলে জানায়, যিনি মারা গিয়েছেন তিনি তার বাবা নন। রবিবার এই ঘটনা ঘটেছে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ষাটোর্ধ্ব ওই বৃদ্ধের নাম মধু দাস। এদিন এব্যাপারে মৃতের ছেলে সঞ্জয় দাসকে ফোন করা হলে তার বক্তব্য, বসতবাড়ির জমি ও বাড়ি লিখে দিলে এমন সমস্যা হত না। এখন কোভিড পরিস্থিতি চলছে, তাই মৃতদেহ নেব না।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। সাতদিন মৃতদেহ মর্গে রাখা হবে। তারপর আইন অনুযায়ী মৃতদেহ সৎকার করার ব্যবস্থা করা হবে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার অভীক মাইতি বলেন, রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পুরুষ মেডিসিন বিভাগে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা না আসায় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের পুলিশ মর্গে মৃতদেহটি রাখা হয়েছে।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ থানার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের বাড়ি রায়গঞ্জ শহরের মিলনপাড়া এলাকায়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, নিজের নামে জমি লিখে না দেওয়ায় বছরখানেক আগে মধুবাবুকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল ছেলে সঞ্জয় দাস। অসহায় বৃদ্ধ বাবা দিনকয়েক রাস্তার ধারে রাত কাটান। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তখন তাঁকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করে। প্রথমে তিনি রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের শল্য বিভাগে ছিলেন। মাস তিনেক হল রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগে থাকতেন।

স্ত্রী অনেক বছর আগেই প্রয়াত হয়েছেন। তারপর থেকে একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন মধুবাবু। দুই মেয়েকে দীর্ঘদিন আগে বিয়ে দিয়েছেন। নিজের ১০ কাঠা জমির ওপর তৈরি বাড়িতেই ছেলেকে নিয়ে থাকতেন মধুবাবু। সব ঠিকঠাকই চলছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছেলে বিয়ে করার পর থেকেই পরিবারে অশান্তির সূত্রপাত। কয়েক মাস ধরে অসুস্থ মধুবাবুকে নিয়ে পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েন চলে। কিন্তু বছরখানেক আগে পরিস্থিতি ভয়ংকর আকার নেয়। অভিযোগ, মধুবাবুর ছেলে সঞ্জয় তার স্ত্রীর পরামর্শে বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তারপর থেকেই রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শল্য বিভাগ থেকে কখনও মেডিসিন বিভাগ থেকে খাবার জোটাতেন ওই বৃদ্ধ। হাসপাতালেই ভিক্ষাবৃত্তি করতেন। নিজের বাড়ি, জমিজায়গা থাকতেও সব হারিয়ে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজই ছিল তাঁর ঠিকানা। সুদর্শনপুর এলাকার এক সমাজকর্মী কৌশিক ভট্টাচার্যের সহযোগিতায় ওই বৃদ্ধকে কিছু সাহায্য করা হত।

হাসপাতাল সংলগ্ন দোকানদাররা জানান, দিনকয়েক আগেও মধুবাবু হাসপাতালের সামনে একটি চায়ের দোকানে বসে বলছিলেন নিজের বাড়ি, জমি রয়েছে। কিছু টাকাও জমানো রয়েছে বাড়িতে। কিন্তু ছেলে-বৌমা তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এদিন সকালে মধুবাবুর মৃত্যু হলে তার পরিবারের সদস্যদের ফোন করা হয়। তাদের বক্তব্য, যিনি মারা গিয়েছেন তিনি তাঁদের বাবা নন। ফলে অজ্ঞাতপরিচয় একটি দেহ হিসেবেই এদিন বিকেল ৫টা নাগাদ ওই বৃদ্ধের মৃতদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়। এব্যাপারে রায়গঞ্জ থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নার্সদের বক্তব্য, একবার তাঁর ছেলেকে দেখা গিয়েছিল। কিছু কাগজে বাবার সই নিয়ে সেখান থেকেই চম্পট দেয় ছেলে।