স্ত্রীর ওপর রাগ করে আত্মীয়ের বাড়িতে আগুন লাগাল জামাই, মৃত ২

448

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: স্বামীর অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে আসা বোনজিকে আশ্রয় দিয়ছিল মাসি ও মেসো। স্বামী নিতে আসলেও মাসির বাড়ি ছেড়ে বধূ তাঁর শ্বশুরবাড়ি ফিরে যেতে চায়নি। এরই বদলা নিতে রাতের অন্ধকারে মাসি শাশুড়ির ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দিয়ে পালাল জামাই। সেই আগুনে পুড়ে মৃত্যু হল মাসি শাশুড়ি ও মেসো শ্বশুরের। এই হত্যা কাণ্ডের ঘটনাটি সোমবার গভীর রাতে ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার বাসুদা গ্রামে। পুলিশ অভিযুক্ত জামাই কৃষ্ণ মালিককে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে মৃতর পরিবার।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে ,আগুনে পুড়ে মৃতরা হলেন জ্যোৎস্না মাল (৪২) ও তাঁর স্বামী অজিত মাল (৪৭)। বসুদা গ্রামেই তাদের বাড়ি। ঘটনাস্থলেই জোৎস্না মালের মৃত্যু হয় । আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁর স্বামী অজিতকে ভর্তি করা হয়েছিল বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে । মঙ্গলবার দুপুরে সেখানে তিনিও মারা যান ।এদিনই বর্ধমান হাসপাতাল পুলিশ মর্গে মৃতদের দেহের ময়নাতদন্ত হয়।

- Advertisement -

জ্যোৎস্না মালের বোন কৌশল্যা মালের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্ততে ভাতার থানার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্তের খোঁজ চালানো শুরু করে ।পুলিশ মেমারির হাসপুকুর মোড় থেকে গ্রেফতার করে জ্যোৎস্নার বোনজি গঙ্গা মালিকের স্বামী কৃষ্ণ মালিক কে । খুনের ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ এদিনই ধৃতকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে । তদন্তকারী অফিসার ধৃতকে নিজেদের হেপাজতে নিতেচয়ে আবালতে আবেদন জানান। বিচারক ধৃতকে ৪ দিন পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ।

ভাতারের কুমারুন গ্রামে বাবার বাড়ি বধূ গঙ্গা মালিকের। তাঁর মাসির বাড়ি ভাতারের বসুদা গ্রামে। প্রায় আট বছর আগে হুগলীর পাণ্ডুয়া নিবাসী যুবক কৃষ্ণ মালিকের সঙ্গে বিয়ে হয় গঙ্গার। এই দম্পতির বছর সাত বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে ।গঙ্গা মালিক এদিন অভিযোগে বলেন, বিয়ের পর থেকে সে একদিনও শ্বশুর বাড়িতে শান্তিতে থাকতে পারেনি । প্রতিদিনই তাকে স্বামীর মারধোর হজম করতে হত।গত শুক্রবারও তাকে তাঁর স্বামী কৃষ্ণ অমানুষিক ভাবে মারধোর করে শ্বশুর বাড়ি থেকে বেরকরে দেয়। গঙ্গা বলেন, স্বামীর নির্যাতনের হাত থেকে নিজের প্রাণ বাঁচাতে ওই দিনই সে ভাতারের বসুদা গ্রামে মাসির বাড়িতে চলে আসে।

বধূ গঙ্গা মালিকের মা কৌশল্যাদেবী এদিন বলেন, জামাইয়ের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তাঁর মেয়ে প্রায়শই বাবার বাড়ি চলে আসতো। কখনও তার কাছে আবার কখনও বসুদা গ্রামে মাসির বাড়িতে এসে থাকাতো। গত শুক্রবার কৃষ্ণ মারধোর করে তাড়িয়ে দেবার পর গঙ্গা বসুদা গ্রামে তার মাসি জ্য্যোৎস্নার বাড়িতে গিয়ে ওঠে। সেখানেই সে ছিল। গঙ্গাকে ফের শ্বশুর বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাবার জন্য সোমবার কৃষ্ণ সেখানে হাজির হয়। গঙ্গা জানিয়েছে, তাঁকে মারধোর করে তাড়িয়ে দেবার ঘটনা মেনে নিতে না পেরে তার মেসো অজিত মাল ও মাসি জ্যোৎস্না মাল বকাবকি করে তাঁর স্বামী কৃষ্ণকে। তখনই কৃষ্ণ তাদের পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়ে চলে যায় ভাতারের খরুল গ্রাম নিবাসী তার বোনের বাড়ি।

গঙ্গা এদিন অভিযোগে জানায়, হুমকি মতোই তাঁর স্বামী কৃষ্ণ গভীর রাতে তার মাসির বাড়িতে আসে। মাসি ও মেসো যে ঘরে ঘুমিয়েছিল সেই ঘরে পেট্রেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। আর সে ও তাঁর মাসির বাড়ির অন্য সদস্যরা যে ঘরে শুয়ে ছিল সেই ঘরের দরজার শিকল বাইরে থেকে তুলে দিয়ে কৃষ্ণ পালায়। আগুনে পুড়ে ঘরেই ঘরেই মারাযায় মাসি জ্যোৎস্না মাল। গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় মেসো অজিত মালকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গঙ্গা জানিয়েছে, সেখানে মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর মেসোও মারা যায়। পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জেনে ভাতারের বসুদা গ্রামের সকল মানুষজন হতবাক হয়ে গিয়েছেন। মৃতর পরিবার পরিজন ও প্রতিবেশী অভিযুক্তের ফাঁসির সাজার দাবি করেছেন।