বধূকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার জামাই সহ তিন

113

বর্ধমান: দাবি মতোন পণের অতিরিক্ত টাকা দিতে পারেননি বাবার বাড়ির লোকজন। তার জেরেই গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে প্রাণে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্বামী সহ শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। মৃতার নাম অর্পিতা দাস (২৩)। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী থানার পলাশপুলি গ্রামে। বুধবার কালনা মহকুমা হাসপাতাল মর্গে মৃত ব্যক্তির দেহের ময়নাতদন্ত হয়। অন্যদিকে, মৃতার বাবা তরুণ দাসের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পূর্বস্থলী থানার পুলিশ বধূর স্বামী গনেশ রাজবংশী, শ্বশুর গৌরদাস রাজবংশী ও শাশুড়ি পদ্মা বাজবংশীকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিকে, অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন মৃত ওই গৃহবধূর বাবা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার নাদনঘাট থানার নসরৎপুরের আদর্শপল্লীর বাসিন্দা মৃতা অর্পিতা দাস। প্রায় বছর দেড়েক আগে দেখাশুনা করে পলাশপুলি গ্রাম নিবাসী যুবক গনেশ রাজবংশীর সঙ্গে অর্পিতার বিয়ে হয়। গনেশ একটি ব্যাঙ্কে ঠিকাকর্মী হিসাবে কাজ করেন। বধূর বাবা তরুণ দাস পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের বিয়ের সময়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি মতোন নগদ ৫০ হাজার টাকা, সাড়ে ৫ ভরি সোনার গহনা সহ আরও নানা মূল্যবান আসবাবপত্র দিয়ে ছিলেন। কিন্তু এসব কিছু দেওয়ার পরেও জমাই ও মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে সন্তুষ্ট করতে পারেননি।

- Advertisement -

তরুণবাবু বলেন, ‘বিয়ের কয়েকমাস পর থেকেই জামাই সহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাঁর মেয়ের উপরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। বিয়েতে দেওয়া সব সোনার গহনা শাশুড়ি পদ্মাদেবী নিছে কব্জা করে নেন। এরপর বাবার বাড়ি থেকে পণের অতিরিক্ত ৩০ হাজার টাকা নিয়ে আসার জন্য জামাই সহ তাঁর পরিবারের অন্যরা অর্পিতার উপরে চাপ সৃষ্টি করে চলে। পাশাপাশি চলত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।’ তরুণবাবুর অভিযোগ, বিগত কয়েকদিন যাবৎ তাঁর মেয়ের উপরে জামাই, শ্বশুর, শাশুড়ি ও এক ননদের নির্যাতন চরমে ওঠে। মঙ্গলবার বিকালে শ্বশুরবাড়ির ঘর থেকে তাঁর মেয়ের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার কথা সেখানকার এক বাসিন্দার কাছ থেকে জানতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়েকে শ্বাসরোধ করে প্রাণে মেরে জামাই সহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন ঝুলিয়ে দিয়েছে।

মৃতার পরিবারের অভিযোগের তদন্তে নেমে ইতিমধ্যে স্বামী সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি মৃতার ননদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।