শ্বশুরকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে খুন করল জামাই

462

রায়গঞ্জ: শ্বশুরকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে খুন করল জামাই। সোমবার সন্ধ্যায় রায়গঞ্জ থানার সোহারই মোড়ের সরোজ কলোনী এলাকার ঘটনা। খবর পেয়ে রায়গঞ্জ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুলিশ অভিযুক্ত জামাই সঞ্জিত ঘোষ ও তার স্ত্রী বিজয়া রানী ঘোষ (দে সরকার)কে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত শ্বশুরের নাম হারাধন দে সরকার(৭৯)। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ মর্গে পাঠিয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার মৃতদেহ ময়না তদন্তে হবে।

মৃতের স্ত্রী মায়া দে সরকার বলেন, “আমি বাড়িতে ছিলাম না। আমার স্বামী বাড়িতে একাই ছিল। আমার জামাই সঞ্জিত ঘোষ ও জামাইয়ের বাবা সোহিন্দর ঘোষ ধারাল অস্ত্রের পাশাপাশি ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে খুন করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেই সময় এলাকার বাসিন্দারা অভিযুক্ত জামাই মেয়েকে আটকে রেখে গণধোলাই দেওয়া শুরু করে। যদিও অভিযুক্ত জামাইয়ের বাবা সেখান থেকে গা ঢাকা দেয়।

- Advertisement -

পরিবার সূত্রে খবর, বছরখানেক আগে অভিযুক্ত জামাই সঞ্জিত ঘোষের মা বাসন্তী ঘোষ বাড়ির উঠোনে খুন হন। সেই খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত হিসাবে সন্দেহ করা হয় হারাধন দে সরকার ও মায়া দে সরকারকে। এদিন মৃত বৃদ্ধের স্ত্রী মাঠে ঘাস কাটতে গেলে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ধারাল অস্ত্রের পাশাপাশি ইট ও কাঠ দিয়ে মাথা থেঁতলে খুন করা হয়।

পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন, ” এদিন সাড়ে আটটা নাগাদ মৃতর স্ত্রী মায়া দে সরকার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। দু’জনকে আটক করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে।” পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ি থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে বাড়ির অদূরেই খুন করে কচুরিপানার মধ্যে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ওই বৃদ্ধের চিৎকারের গ্রামবাসীরা এসে অভিযুক্তকে ধরে গণপিটুনি শুরু করে। এরপর পুলিশ এসে অভিযুক্ত জামাই ও মেয়েকে গ্রেপ্তার করে। রায়গঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিক বলেন, অভিযুক্ত সঞ্জিত ঘোষ খুনের ঘটনা স্বীকার করেছে। তবে কী কারণে খুন হতে হল  বৃদ্ধকে তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।