মাকে খুন করে পুঁতে রেখেছিল ছেলে, দু’বছর পর উদ্ধার দেহ

252

বর্ধমান: মাকে খুন করে ঘরের মেঝেতে দেহ পুঁতে রেখে সেই ঘরেই দু’বছর ধরে বাস করছে ছোট ছেলে। বর্ধমান থানার হাঁটুদেওয়ানের পীরতলা এলাকার ঘটনা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম সুকরানা বিবি(৫৮)। ছোট ছেলে সহিদুল আলির বিরুদ্ধে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন ছোটবৌমা রুপসুনা বিবি। এরপর বড়ছেলে কিসমত আলি মঙ্গলবার বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বর্ধমান থানার পুলিশ সহিদুল আলিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। মাকে খুন করার কথা সাহিদুল স্বীকার করার পরই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তারপরই পুলিশ খুন ও খুনের পর প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার ধারায় মামলা রুজু করে। বুধবার ধৃতকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে। তদন্তের প্রয়োজনে তদন্তকারী অফিসার ধৃতকে নিজেদের হেপাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানান। বিচারক ধৃতকে ৭ দিন পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিন ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে খোঁড়া হয় সহিদুলের ঘরের মেঝে। তারপরই বেরিয়ে আসে মানবদেহের হাড়গোড় ও মাথার খুলি। উদ্ধার হওয়া হাড়গোড় ও মাথার খুলি সুকরানা বিবির কিনা তা নিশ্চিৎ করতে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুকরানা বিবি তাঁর ছোট ছেলের সঙ্গে থাকতেন। পেশায় লরি চালক বড় ছেলে কিসমত অন্যত্র থাকেন। মা ও ছোট ছেলের মধ্যে নানা কারণে অশান্তি হত। এই অবস্থার মধ্যেই ২০১৯ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে সুকরানা বিবির আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালিয়েও মায়ের হদিস পান না কিসমত। এরপর ওই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারী তিনি বর্ধমান থানায় তাঁর মায়ের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন।

- Advertisement -

কিসমত আলি বলেন, ‘রুপসুনার কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন তাঁর ছোট ভাই তাঁদের মা সুকরুনা বিবিকে খুন করে দেহ ঘরের মেঝেতে পুঁতে দিয়েছে। সহিদুল প্রাণে মেরে দিয়ে তাঁকেও মাটিতে পুঁতে দিতে পারে এমন আশঙ্কার কথা রুপসুনা তাঁর ভাসুরকে জানায়। একইসঙ্গে রুপসুনা তাঁর ভাসুরকে জানিয়ে দেয় সে তাঁর স্বামীর কাছে আর ফিরে যাবে না।’ ভাতৃবধূর কাছ থেকে এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ শোনার পরই কিসমত আলি তাঁর ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে বর্ধমান থানায় অভিযোগ জানান। কিসমতের অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে বর্ধমান থানার পুলিশ।