পৌষ সংক্রান্তিতে দরিবশ ফুলবাড়িতে অনুষ্ঠিত সোনা রায়ের বিয়ে

220

শ্রীবাস মণ্ডল, ফুলবাড়ি: সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গ্রাম বাংলার লোকসংস্কৃতির বিভিন্ন পুজো পার্বণ আজ বিলুপ্তির পথে। বাঙালির লোকসংস্কৃতির এমনই একটি পুজো হল সোনা রায়ের পুজো বা বিয়ে। যা অনুষ্ঠিত হয় পৌষ সংক্রান্তির দিন। একটা সময় এই পুজো বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হত কিন্তু বর্তমানে এই পুজো প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবুও কিছু এলাকায় এখনও এলাকাবাসীদের উদ্যোগে টিকে রয়েছে এই পুজোর ঐতিহ্য। মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের বড় শৌলমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের দরিবশ ফুলবাড়ির রথখোলা এলাকায় বৃহস্পতিবার ধুমধাম করে স্থানীয় রথখোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় সোনা রায়ের বিয়ে বা পুজো।

জানা গিয়েছে, পূর্ববঙ্গ তথা বর্তমানের বাংলাদেশ থেকে আগত তৎকালীন মানুষদের মাধ্যমে এদেশে চলে আসে সোনা রায়ের পুজো বা বিয়ে। গ্রাম বাংলার লোকসংস্কৃতির অঙ্গ হিসেবে পরবর্তীকালে এটি ছড়িয়ে পড়ে উত্তরবঙ্গ সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। এক সময় সোনা রায়ের বিয়ে বা পুজোর প্রধান আয়োজক ছিল গ্রামের রাখালরা। কিন্তু বর্তমানে আজ আর রাখাল দেখা যায় না। তাই এই পুজো করে থাকে এলাকার ছেলে ও যুবকরা। সামাজিক নিয়ম মেনে একসময় গ্রামের ছেলে ও যুবকরা পৌষ মাসের দেড় দুই সপ্তাহ বাদে সন্ধ্যায় পাড়ায় পাড়ায় বিভিন্ন বাড়িতে ঘুরে সোনা রায়ের গান গেয়ে মাগন তুলে পুজোর আয়োজন করত। কিন্তু বর্তমানে সেই প্রচলন আর নেই। উদ্যোক্তাদের পকেটের টাকা খরচ করেই এখন অনুষ্ঠিত হয় সোনা রায়ের পুজো বা বিয়ে।

- Advertisement -

হিন্দু ধর্ম মতে সামাজিক বিয়ের ধাঁচেই সোনা রায়ের পুজো বা বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। নিয়ম মেনে বিয়ের জন্য এলাকার মহিলারা জলও তুলেন বাজনা বাজিয়ে। তবে এই পুজো বা বিয়েতে ব্রাহ্মণের প্রয়োজন হয় না। ছেলে যুবকদের গানের মধ্য দিয়েই সোনা রায়ের পুজো বা বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। মাটির ঢিবিতে আসন বানিয়ে তার চারদিকে চারটি কলাগাছ বসিয়ে দেওয়া হয়। তারপর ফুল দিয়ে সাজিয়ে সুন্দর করে ছাতনা তলা তৈরি করা হয়। বিন্যাঘাস ও কুল গাছের ছোট ডাল দিয়ে সোনা রায় ও তাঁর বউ বানিয়ে বেশ সুন্দর করে সাজিয়ে আসনে বসিয়ে দেওয়া হয়। সোনা রায়ের বিয়ের জন্য কিছু প্রচলিত গান রয়েছে। সন্ধ্যায় ছেলে যুবকরা সেই গান গেয়ে সোনা রায়ের পুজো বা বিয়ে দেন। বিয়ে শেষে থাকে ভুরি ভোজের আয়োজনও।

দরিবশ ফুলবাড়ি এলাকার যুবক লালন বিশ্বাস,মনা হালদার, শ্যামল সরকার প্রমুখ জানান, একসময় এই সোনা রায়ের পুজো বা বিয়ে বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হত পৌষ সংক্রান্তির দিন। তাঁরা নিজেরাও এক সময় মাগন তুলে এই পুজো করতেন। কিন্তু বর্তমানে এলাকার মানুষদের যৌথ উদ্যোগে নিজেদের টাকা খরচ করে রথখোলায় সোনা রায়ের পুজো বা বিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শুধু মাত্র এই পুজো বা বিয়ের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার জন্য।