রাহুলের কথা ভেবে মনমোহনকে প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন সোনিয়া, বিস্ফোরক ওবামা

351

ওয়াশিংটন : রাহুল গান্ধির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই মনমোহন সিংকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন সোনিয়া গান্ধি। কংগ্রেস সভানেত্রীর এই পদক্ষেপের কারণ ছিল, মনমোহন সিং সংখ্যালঘু শিখ সম্প্রদায়ের সদস্য এবং ভারতীয় রাজনীতিতে তিনি প্রভাবহীন। সোনিয়ার লক্ষ্য ছিল এমন কাউকে প্রধানমন্ত্রী করা যিনি ভবিষ্যতে রাহুল গান্ধির পথের কাঁটা হতে পারবেন না। সবাইকে চমকে দিয়ে তাই মনমোহনকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য বেছে নিয়েছিলেন সোনিয়া। নিজের আত্মজীবনীতে এভাবেই সোনিয়া-রাহুল গান্ধি ও মনমোহন সিংয়ের কথা উল্লেখ করেছেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। রাহুল সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন, রাহুল গান্ধি নার্ভাস। রাজনীতির প্রতি তাঁর প্যাশনের অভাব রয়েছে। রাহুলের মানুষকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা নিয়ে ওবামা প্রশ্ন তুলেছেন। পাশাপাশি মনমোহন সিংয়ের জ্ঞান, বিচক্ষণতা ও সৌজন্যবোধ যে তাঁকে চমকে দিয়েছে সেকথাও স্বীকার করেছেন দুবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইউপিএ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় মনমোহন-সোনিয়ার মধ্যে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল পরোক্ষে সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন ওবামা।

ভারত সফরের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং আমাকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ করেছিলেন। সেখানে সোনিয়া ও রাহুল গান্ধিও ছিলেন। আমার মনে হয়েছে, সোনিয়া গান্ধি শ্রোতা হিসাবে বেশি স্বচ্ছন্দবোধ করেন। তবে মনমোহন সিং সরকারি বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলেই সোনিয়া বারবার চেষ্টা করেছেন সেই আলোচনায় রাহুলকে যুক্ত করতে। একই সঙ্গে মনমোহন সিংকে ভারতীয় অর্থনীতির রূপকার হিসাবে বর্ণনা করেছেন ওবামা। তাঁর মতে, ধর্ম ও জাতপাতের সংকীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সরকার পরিচালনার চেষ্টা করেছেন মনমোহন। আত্মজীবনীতে শুধু রাহুল নয়, আরও একজন গান্ধির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন ওবামা। তিনি মহাত্মা গান্ধি। সমালোচনা নয়, ভারতের জাতির জনকের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভারতের প্রতি তাঁর মুগ্ধতাকে মহাত্মা গান্ধি কেন্দ্রিক বলে ব্যাখ্যা করেছেন।

- Advertisement -

আত্মজীবনী এ প্রমিসড ল্যান্ড-এ ওবামা লিখেছেন, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের নিপীড়িত ও প্রান্তিক শ্রেণির মানুষদের নিয়ে অহিংস আন্দোলন করেছিলেন মহাত্মা গান্ধি। ভারত সম্পর্কে আমার আগ্রহ তাঁকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। আব্রাহাম লিঙ্কন, মার্টিন লুথার কিং ও মহাত্মা গান্ধি আমার চেতনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছেন। যৌবনে আমি তাঁর লেখা পড়েছি। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে ভাষা দিয়েছে। গান্ধির সত্যাগ্রহ ও অহিংসার প্রতি আস্থা, মানবিকতা, সব ধর্মের প্রতি সম দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমেরিকায় বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের কথাও প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করেছেন ওবামা। প্রেসিডেন্ট হিসাবে দুবার ভারত সফরের কথাও লিখেছেন আত্মজীবনীতে। প্রশংসা করেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের। ওবামার মতে, মনমোহন সিং একজন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান মানুষ।

ইন্দোনেশিয়ায় ছেলেবেলা কাটানো ওবামার আত্মজীবনী থেকে বাদ যায়নি রামায়ণ-মহাভারতের কথাও। তিনি লিখেছেন, ছোট থেকে রামায়ণ ও মহাভারতের গল্প শুনে বড় হয়েছি। প্রাচ্যের দেশগুলি সম্পর্কে আমার কৌতুহল রয়েছে। ভারত বিরাট দেশ। এটি বিশ্বের এক-ষষ্ঠাংশ মানুষের বাসভূমি। ২ হাজার জনগোষ্ঠীর দেশ ভারতের অধিবাসীরা ৭০০টি ভাষায় কথা বলেন। কলেজ জীবনের স্মৃতিচারণেও ভারতের উল্লেখ করে ওবামা লিখেছেন, কলেজে আমার বেশ কয়েকজন ভারতীয় ও পাকিস্তানি সহপাঠী ছিল। তারাই আমাকে ডাল ও কিমা রান্না করতে শিখিয়েছিল। কলেজ সূত্রেই তাঁর বলিউড ছবির প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয় বলে জানিয়েছেন ওবামা।