একজোট হন, দলীয় সংহতি রক্ষায় নেতাদের জরুরি বার্তা সোনিয়ার

305

নয়াদিল্লি: দলে ভাঙন, মাৎসন্যায়ের পরিস্থিতি, আভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ। সময়টা মোটেই ভালো যাচ্ছে না কংগ্রেসের। এরই মধ্যে হাল ধরতে প্রদেশ নেতা ও পর্যবেক্ষক মণ্ডলীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসল কংগ্রেস হাই কম্যাণ্ড। সূত্রের দাবি, এদিন প্রদেশ নেতা ও রাজ্য পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি। দলীয় নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে তাঁর কড়া বার্তা, প্রদেশ নেতাদের মধ্যে সংহতি এবং স্বচ্ছতার প্রবল অভাব রয়েছে। কংগ্রেস সভানেত্রী মনে করেন, রাজ্যস্তরে নেতারা যথাযথ স্বচ্ছতা এবং সংহতির বার্তা দিতে অসমর্থ। ফলে শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা পৌঁছাচ্ছে না দলের তৃণমূলস্তরের নেতা-কর্মী অবধি। দলের নেতাদের প্রতি সোনিয়ার পরামর্শ, নিজেদের উচ্চাকাঙ্খা কম করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করতে হবে। শীর্ষ নেতাদের উচ্চাকাঙ্খার ফলেই দলে গোষ্ঠীকোন্দল ক্রমশ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে প্রদেশ নেতাদের জানিয়েছেন সোনিয়া গান্ধি।

পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বিজেপি যখন তাদের রণকৌশল তৈরিতে ব্যস্ত, সেসময় নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জেরবার কংগ্রেস নেতৃত্ব। পেট্রোল, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি থেকে শুরু করে রান্নার গ্যাসের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্ব কেন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে নেই, সেই প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে, পঞ্জাব, রাজস্থানে দলের গোষ্ঠীকোন্দল নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে শতাব্দী প্রাচীন দলটি। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের থেকে কংগ্রেসের সামনে এখন অস্তিত্ত্ব রক্ষাই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় ইস্যু।

- Advertisement -

এই পরিস্থিতিতে দলের নেতাদের আত্ম-সমালোচনা করা প্রয়োজন বলে এদিন বার্তা দেন সোনিয়া গান্ধি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে কংগ্রেস সভানেত্রী বলেন, ‘আমি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি শৃঙ্খলা এবং একতার প্রয়োজীয়তা। এখন আমাদের সবার প্রয়োজন দলের শক্তিবৃদ্ধি করা। ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্খাকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে।’ দলের শক্তিবৃদ্ধির মধ্যেই সকলের সাফল্য রয়েছে বলে এদিন উল্লেখ করেন সোনিয়া গান্ধি। উল্লেখ্য, আগামী ১ নভেম্বর থেকে কংগ্রেসের সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে। যে কোনও রাজনৈতিক দলের কাছে আন্দোলন সংগঠিত করার অন্যতম হাতিয়ার তার সদস্যরা, জানিয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী।

একইসঙ্গে এদিন আরএসএস এবং বিজেপির বিরুদ্ধে দলের নেতাদের আদর্শগতভাবে লড়াইয়ের ডাক দেন কংগ্রেস সভানেত্রী। সোনিয়ার দাবি, রোজই বিজেপি-আরএসএস-সঙ্ঘ পরিবারের বিরুদ্ধে জাতীয়স্তরে কংগ্রেস নানা বিষয়ে বিরোধী সুর তোলে। তবে, তা ক্রম সঞ্চারণের নীতি মেনে দলের জেলা, ব্লকস্তরে পৌঁছায় না। এমনকি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রির মত ইস্যুগুলি নিয়ে কংগ্রেস প্রতিদিন বিবৃতি এবং দলের অবস্থান জানালেও তা যে তৃণমূলস্তর পর্যন্ত পৌঁছায় না, এদিন প্রদেশ নেতাদের সামনে তা তুলে ধরেন কংগ্রেস সভানেত্রী। তিনি বলেন, ‘দেশের সমস্যাগুলি নিয়ে কংগ্রেস কমিটি প্রায় প্রতিদিনই বিবৃতি জারি করে থাকে। তবে আমার অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি, একবারে নীচুতলা পর্যন্ত সেই বার্তা পৌঁছোয় না। দলের মধ্যে বিভিন্ন নীতিগত সমস্যা রয়েছে। রাজ্যস্তরেও দলের মধ্যে সংহতির অভাব রয়েছে।’ দলের মহিলা ও যুব সম্প্রদায়কে যথাযথ জায়গা করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী।