ইনডং চা বাগানে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শুভেচ্ছাপত্র

1134

নাগরাকাটা: শেষ বারের মত এসেছিলেন ২০১৭-র অক্টোবরের শেষে। মাত্র দু’মাস আগে নিজেই ফোন করে জানিয়েছিলেন ক্লান্তি গ্রাস করছে। সবুজের মাঝে একটু তরতাজা হতে ফের আসছি  ২০২১ এর জানুযারিতে। যদিও সেই ইচ্ছে অপূর্ণই রয়ে গেল বঙ্গ সিনেমা-সংস্কৃতির আইকন সৌমিত্র চট্রোপাধ্যায়ের। তাঁর প্রয়াণে তাই এখন মুখভার মেটেলির ইনডং চা বাগানের শ্রমিক-মালিক সব পক্ষেরই। ফেলুদাকে ঘিরে গোটা ইনডং এর শুধু নস্টালজিক হওয়াই নয়। ভারাক্রান্ত হওয়ারও যথেষ্ট কারণ রয়েছে বৈকি।

৩ বছর আগে ২৮ অক্টোবর তারিখে তিনি যখন সেখানে শেষ বারের জন্য পা রেখেছিলেন উদ্দেশ্য ছিল শ্রমিকদের জন্য পরিচালকদের তৈরি করে দেওয়া একটি বিনোদন কেন্দ্র তথা শ্রমিক ক্লাবের উদ্বোধন। পাশাপাশি ওই বাগানে নয়া কর্মসংস্থানের জন্য ডেয়ারি ফার্মিং প্রকল্পের পথ চলাও সেদিন তাঁর হাত দিয়ে শুরু হয়েছিল। চা বাগান ও চা শিল্পকে যে তিনি ভালই বুঝতেন পরিষ্কার হয়েছিল অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর ভাষনেই। ঠিক যেভাবে সেদিন নির্ঝরের স্বপ্ন ভঙ্গ কবিতাটি আবৃত্তি করেছিলেন ঠিক সেরকমই উদাত্ত কন্ঠে বলেছিলেন, শ্রমিক-মালিকের মেলবন্ধন ঘটলে ভারতীয় চা শিল্প জগৎ সেরা হবেই।

- Advertisement -

আরেক বাঙালী আইকন সত্যজিৎ রায় এর মানসপুত্র হিসেবে পরিচিত সৌমিত্র-র এই চলে যাওয়াকে এখনও মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না তাঁর বন্ধু ও ইনডং এর নির্দেশেক হরিরাম গর্গ এবং বাগানের ম্যানেজার রজত দেব। ম্যানেজার বলেন, মাত্র দু’মাস আগের ঘটনা। নির্দেশককে নিজেই ফোন করে জানিয়েছিলেন ক্লান্তি দূর করে একটু তরতাজা হতে নতুন বছরের জানুয়ারিতে তিনি আসবেন। ৪-৫ দিন থাকার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছিলেন। সেই মোতাবেক ব্যবস্থাও শুরু করে দিয়েছিলাম।

ইনডং-এ ২০১৭-র ওই সফরে এসে ম্যানেজারের বাংলোতে রাত্রি যাপনও করে যান হীরক রাজার দেশের উদয়ন মাস্টার। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ডিবিআইটিএ-র প্রাক্তন সম্পাদক সুমন্ত গুহঠাকুরতা। রুমা গুহঠাকুরতা ও অরূপ গুহঠাকুরতা যে সুমন্ত বাবুর জেঠিমা ও জেঠামশাই সে পরিচয় পেয়ে সৌমিত্র দারুন খুশি হয়েছিলেন। সে রাতে নিজের হাতে রান্না করে সৌমিত্র বাবুকে খাইয়েছিলেন রজত জায়া জয়িতা। পরদিন ফেরার সময় নিজেই কাগজ চেয়ে নিয়ে লিখে যান, খানাপিনার ব্যবস্থা উত্তমরূপে ছিল বলে মুগ্ধ হইনি। তেমনটা তো হতেই পারে। যাতে মুগ্ধ ও অভিভূত হয়েছি তা সাগ্রহ ও সাদর যত্নের স্পর্শে।