আবার ভোটে দাঁড়াতে তৈরি ভূমির সৌমিত্র

156

সৌরভকুমার মিশ্র, হরিশ্চন্দ্রপুর : তাঁর মা মঞ্জুলা রায় যখন রাজ্য মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়মিত কলকাতায় তাঁদের বাড়ি যেতেন। সে সময় সবে রাজনীতিতে আসছেন মমতা। নানা পরামর্শ পেতেন মঞ্জুলার কাছে। বাড়ির লোক হয়ে উঠেছিলেন প্রায়। মঞ্জুলার ছেলেকে ডাকতেন খোকন বলে। সৌমিত্র রায়ের কাছে সেই স্মৃতি খুব মধুর। হরিশ্চন্দ্রপুরের জমিদারবাড়িপ বড়তরফে তাঁর পৈতৃক ভিটেয় তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্পষ্ট বোঝা গেল, তিনি আবার মমতার প্রার্থী হওয়ার জন্য মনেপ্রাণে তৈরি। এলাকার উন্নয়ন নিয়ে তাঁর মুখে অনেক স্বপ্নের কথা শোনা যায় কথাবার্তার সময়।

ভূমি ব্যান্ডের লিড সিংগারের সাফ কথা, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে প্রার্থী হলেন একজন। আমাদের প্রিয় দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নেতৃত্বেই আমরা সবাই লড়ছি। তবে দল এবং এলাকার মানুষ যদি মনে করেন আমি প্রার্থী হিসেবে যোগ্য, তাহলে আমি চাইব আমার জন্মস্থান হরিশ্চন্দ্রপুর থেকেই দাঁড়াতে। চারদিকে এত দলবদলের হিড়িক সাংস্কৃতিক মহলে, গায়ক সৌমিত্র কিন্তু ওই পথে হাঁটতে নারাজ। বলেই দিলেন, আশি সাল থেকে দিদির সঙ্গে আছি। দল এবং এলাকার মানুষ যদি আমাকে প্রার্থী হিসাবে চায়, তাহলে আমি দলের প্রত্যেককে নিয়ে ভালোবেসে একসঙ্গে কাজের চেষ্টা করব। সৌমিত্র এর আগে তৃণমূলের হয়ে মালদা জেলায় দুটি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই হেরেছেন। ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে উত্তর মালদা লোকসভা আসনে। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে হরিশ্চন্দ্রপুর পার্শ্ববর্তী চাঁচল আসনে।

- Advertisement -

মমতা বারবার আক্ষেপ করছেন মালদা থেকে কোনও আসন জেতেন না বলে। সৌমিত্র কিন্তু তবু দাঁড়ানোর জন্য তৈরি। তাঁকে বলতে শোনা গেল, এবারের ভোট পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ভোটে বাঙালি সিদ্ধান্ত নেবেন, তাঁরা বাঁচবেন, না মরবেন। এবারের ভোটে বাঙালি সিদ্ধান্ত নেবেন বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, আবেগ, ভালোবাসা ও মানুষের সঙ্গে মানুষের মেলবন্ধন বাঁচিয়ে রাখবেন নাকি সাম্প্রদায়িক শক্তির হাতে বিলিয়ে দেবেন। সৌমিত্রের দাবি, এর আগে হরিশ্চন্দ্রপুরের জন্য কিছু করার ব্যাপারে যখনই এলাকাবাসী দাবি জানিয়েছেন, আমি সেই দাবি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিয়েছি। গত ১০ বছরে মালদার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। তার সঙ্গে সঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুরের চেহারাও অনেক বদলে গিয়েছে। আজ হরিশ্চন্দ্রপুরে নতুন নতুন সাবস্টেশন, নতুন নতুন রাস্তাঘাট, আইটিআই- এ ধরনের প্রচুর কাজ হয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকাজুড়ে।

নাম না করেই ভারতীয় জনতা পার্টিকে একহাত নিলেন সৌমিত্র। দেশজুড়ে ধর্মীয় মেরুকরণ তৈরি করার চেষ্টায় একটি দল। আমার বাড়িতেও রামকানাইয়ের বিগ্রহ রয়েছে। তিনি আমাদের বংশের ইষ্টদেবতা। কই, আমরা তো কখনও এসব নিয়ে প্রচার করিনি। মানুষের মধ্যে বিভেদের রাজনীতি তৈরি করিনি। পশ্চিমবঙ্গজুড়ে হিন্দু, মুসলিম ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ সম্প্রীতির বাতাবরণে বাস করছেন। আর কিছু মানুষ চাইছেন এতে উসকানির ইন্ধন জুগিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করতে, যা খুব খারাপ। তাই আমরা বেশি করে দিদির পাশে। সৌমিত্রের জেঠু রামপ্রসন্ন রায় রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন স্বাধীনোত্তর ভারতে। সৌমিত্রের মন্তব্য, দিদি মাটির মানুষ। আজীবন বাংলার কথা ভেবে এসেছেন। ওঁর সঙ্গে যখনই দেখা হয় উনি হরিশ্চন্দ্রপুর আর মালদার খোঁজখবর নেন আমার কাছে। আমাদের সৌভাগ্য যে এমন মানুষকে আমরা মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে পেয়েছি।

দলের গোষ্ঠীকোন্দল ঠেকাতে সৌমিত্রকে প্রার্থী হিসাবে চাইছেন দলের অনেক কর্মী-সমর্থক। তৃণমূলের হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের আমিনুল হক, ১ নম্বর  ব্লক তৃণমূলের সভাপতি মানিক দাসের কথায় সৌমিত্রকে সমর্থনের সুর। বোঝাই যাচ্ছে, আগের দুবার হেরেও নতুন করে তৃতীয়বারের অঙ্ক কষছেন ভূমির গায়ক।