মুখ্যমন্ত্রীর রোষের মুখেই কোচবিহারের এসপি বদল? প্রশ্ন পুলিশ মহলে

144

কোচবিহার: ‘এসপিকে ফাঁসাতে হবে।’ ভোট পর্ব চলাকালে শীতলকুচিকাণ্ডে বিজেপির তরফে প্রকাশ করা ভাইরাল অডিও ক্লিপে এমনটাই শোনা গিয়েছিল। এবার নির্বাচন মিটতেই শেষ পর্যন্ত সরিয়ে দেওয়া হল কোচবিহারে পুলিশ সুপার দেবাশিস ধরকে। তাঁর জায়গায় আসছেন কে কান্নন। তিনি এর আগে কোচবিহারের পুলিশ সুপারের দায়িত্ব সামলেছেন। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পরই নির্বাচন কমিশনের তরফে কে কান্ননকে অন্যত্র বদলি করে দেওয়া হয়। সেই জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছিল দেবাশিস ধরকে। নির্বাচনের পালা মিটতেই দেবাশিস ধরকে পুলিশ সুপারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। বুধবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এমনটাই স্পষ্ট করা হয়। তবে দেবাশিসবাবুকে কোথায় পোস্টিং দেওয়া হয়েছে সেই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কোনও উল্লেখ নেই। দেবাশিস ধর বলেন, ‘আমার ট্রান্সফার হচ্ছে। তবে কোথায় হচ্ছে জানা নেই।’ অন্যদিকে ভাইরাল হওয়া কল রেকর্ডিংয়ের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি জানান, এবিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই।

গত ১০ এপ্রিল কোচবিহারে চতুর্থ দফায় নির্বাচন হয়। সেদিন শীতলকুচিতে সিআরপিএফের গুলিতে প্রাণ হারান চারজন। সেই ঘটনার পর পুলিশ সুপার দেবাশিস ধর সাংবাদিকদের জানান, আত্মরক্ষার জন্যই গুলি চালিয়েছিল সিআরপিএফ। উত্তেজিত জনতা সিআরপিএফ-র উপর আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিল বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছিলেন। এই ঘটনার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কল রেকর্ড ভাইরাল হয়। যেখানে শোনা যায় ‘এসপিকে ফাঁসাতে হবে’। যদিও সেই কল রেকর্ডের সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ওই পুলিশ সুপারের বদলির বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে জলঘোলা হচ্ছে। এদিকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতেই কোচবিহার জেলাজুড়ে ব্যাপক সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠছে। ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন। কয়েকশো বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল-বিজেপি উভয় দলের বিরুদ্ধেই। এই ঘটনাগুলি নিয়েও বারবার পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। সেই কারণেও পুলিশ সুপারকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ মহলের একাংশ।

- Advertisement -