চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই জানতেন, মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণ না থাকায সেই পরিবেশ মহাকাশচারীদের শরীরের পেশী, হাড় ও চোখের ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে। এবারে নতুন এক গবেষণায দেখা যাচ্ছে, শুধু শরীরের এইসব ক্ষেত্রেই নয, মহাকাশচারীদের মস্তিষ্কেও যথেষ্ট প্রভাব ফেলে মহাকাশের মাধ্যাকর্ষণহীন পরিবেশ। বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ২৬ জন মহাকাশচারীকে নিযে গবেষণা চালান। এঁদের মধ্যে ১২ জন দু সপ্তাহ মহাকাশে ছিলেন। আর বাকি ১৪ জন পাঁচ থেকে ছ মাস ইন্টারন্যাশল স্পেস স্টেশনে কাটিয়েছেন। বিজ্ঞানীরা এঁদের মস্তিষ্কের এমআরআই করে দেখেন। দেখা যাচ্ছে, অনেকেরই মস্তিষ্কের বেশকিছু অংশ অতিরিক্ত প্রসারিত হয়েছে, কারও কিছু অংশ সংকুচিত হযে পড়েছে। এছাড়া প্রত্যেকেরই মস্তিষ্কে বিরাট অংশজুড়ে গ্রে ম্যাটারের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি না থাকায মস্তিষ্কের তরল পদার্থ শরীরে নীচের দিকে নামতে পারে না। এর ফলে মস্তিষ্ক নতুনভাবে কাজ করতে শুরু করে। পাশাপাশি পাযে নড়াচড়া বা হাঁটাচলা করতে হয না বলে মস্তিষ্ক শরীরের পেশী সঞ্চালনে কোনও ভমিকা নিতে পারে না। এর ফলেই এই ঘটনা ঘটছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে পৃথিবীতে ফিরে আসার পর কতদিন পর‌্যন্ত এরকম অবস্থা থাকে সে ব্যাপারে এখনও বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হতে পারেননি। সেজন্য এখনও এ নিযে গবেষণা চালানো হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমাদের মস্তিষ্ক কোনও অপরিবর্তনীয মেশিন নয যে এটা সারাজীবন একই অবস্থায থেকে যাবে। মাথাকে কাজে লাগিযে আমরা কী করছি তার উপরেই এর ক্ষমতা নির্ভর করে। মহাকাশে যেহেতু শরীরের নিম্নাংশের নড়াচড়া সম্ভব হয না এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তি না থাকায মস্তিষ্কের তরল শরীরের নীচের দিকে নামতে পারে না, তাই মস্তিষ্ক নিজেকে মহাকাশের পরিবেশের পক্ষে উপযুক্ত করে তোলে।