শিরদাঁড়ার সফল অস্ত্রোপচার আসানসোল জেলা হাসপাতালে

378

আসানসোল, ২৬ নভেম্বরঃ ভেঙে যাওয়া শিরদাঁড়ার সফল অস্ত্রোপচার অর্থাৎ স্পাইন অপারেশন করা হল আসানসোল জেলা হাসপাতালে। সাধারণ ধর্মঘটের দিন বৃহস্পতিবার চৈতালি বাউরি নামে এক মহিলার এই অস্ত্রোপচার করেন হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জেন ডাঃ সমীরণ দে। তাঁকে সাহায্য করেছেন জেলা হাসপাতালের দুই অ্যানেসথেলিওজিস্ট ডাঃ মাধব মন্ডল এবং ডাঃ সুকন্যা রায়।

জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, জেলা হাসপাতালে এধরনের অপারেশন সাধারণত করা হয় না। বাংলায় এই প্রথম জেলা হাসপাতালে এই স্পাইন অপারেশন করা হল। বেসরকারি হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচার সফল করতে কমপক্ষে আড়াই লক্ষ টাকা খরচ হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তাহ খানেক আগে আসানসোলের দোমহানি এলাকার ৩০ বছর বয়সি মহিলা হনুমানের তাড়া খেয়ে বাড়ির ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। ঘটনায় চৈতালি বাউরি গুরতর আহত হন। বাড়ির লোকেরা তাঁকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

- Advertisement -

হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জেন ডাঃ সমীরণ দে তার চিকিৎসা শুরু করেন। এক্স-রে সহ বিভিন্ন পরীক্ষার পর চিকিৎসক জানতে পারেন, রোগির শিরদাঁড়া বা স্পাইন (এল২ ভাটিব্রা) এ বড় ধরনের চোট লেগেছে। হাঁড় ভেঙে বসে গিয়েছে। সেই সঙ্গে নার্ভে চোট লেগেছে। এরফলে রোগির ডান পা একবারে অবশ হয়ে গিয়েছে। বাম পায়েরও অবস্থা খারাপ। রোগি হাঁটাচলার ক্ষমতাও হারিয়েছেন। চিকিৎসক বুঝতে পেরে, গোটা বিষয়টি চিকিৎসক হাসপাতাল সুপার ডাঃ নিখিল চন্দ্র দাসকে জানান। সুপার তাঁকে অস্ত্রোপচার করার সবুজ সংকেত দেন।

সেই মতো এদিন চিকিৎসক ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট ধরে রোগির অস্ত্রপচার করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন রোগির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ৮ থেকে ১০ দিন হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। পরে সেলাই কেটে তাঁকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হবে। এরপর রোগি ক্র্যাচ দিয়ে হাঁটা শুরু করবেন। ১৪ দিন পর থেকে ক্র্যাচ ছাড়া আস্তে আস্তে হাঁটতে পারবেন। আগামী তিন মাসের মধ্যেই স্বাভাবিকভাবে রোগি হাঁটতে পারবেন বলে আশাবাদী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই, রোগির জ্ঞানও ফিরেছে।

ডাঃ সমীরণ দে বলেন, চারটি স্ক্রু দিয়ে একটি রড বসানো হয়েছে। এই ধরনের অপারেশন জেলা হাসপাতালে করা হয় না। অনেক ঝুঁকি থাকে। তাও রোগীর শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে, এদিন অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। হাসপাতাল সুপারও সহযোগিতা করেছেন। হাসপাতাল সুপার ডাঃ নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, জেলা হাসপাতালে এধরন অপারেশন হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে ভালো বার্তা পৌঁছবে। চিকিৎসক ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্রোপচার করেছেন। সেই কারণে তাঁকে এবং অন্য সহকারি চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি।